Tuesday 28 Apr 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

‘ঘোস্টবাস্টার্স’-এর সেই পরিচিত মুখ আর নেই

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
১১ মার্চ ২০২৬ ১৬:১৩
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

আশির দশকের হলিউড সিনেমা ও টেলিভিশনের পরিচিত অভিনেত্রী জেনিফার রুনইয়ন আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর গত ৬ মার্চ নিজ শহরেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভক্ত, সহকর্মী ও সহশিল্পীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

আশির দশকে বিনোদন জগতে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন জেনিফার রুনইয়ন। ১৯৮৪ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় সিনেমা ঘোস্টবাস্টার্স এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান তিনি। ছবিটিতে তিনি অভিনেত্রী অ্যানি পটসের চরিত্রের বন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করেন। চরিত্রটি বড় না হলেও সেই সময়ের জনপ্রিয় এই সিনেমার অংশ হয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

একই বছরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক চার্লস ইন চার্জ এ ‘গুয়েন্ডোলিন পিয়ার্স’ চরিত্রে অভিনয় করে ছোট পর্দায় নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেন জেনিফার। সেখানে অভিনেতা উইলি অ্যামসের বিপরীতে তার চরিত্রটি ছিল প্রেমিকার। তরুণ দর্শকদের কাছে সেই সময় এই চরিত্রটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এরপর ১৯৮৮ সালে টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠান এ ভেরি ব্র্যাডি ক্রিসমাস–এ ‘সিন্ডি ব্র্যাডি’ চরিত্রে অভিনয় করে আবারও দর্শকদের মন জয় করেন তিনি। এই চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি জায়গা নেন অভিনেত্রী সুজান ওসলেনের পরিবর্তে। পারিবারিক আবহের গল্পে তার সহজ ও স্বাভাবিক অভিনয় দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়।

ক্যারিয়ারের সেই সময় তিনি আরও কয়েকটি টেলিভিশন প্রজেক্টে কাজ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল এইট্টিন এগেইন নামের একটি সিনেমা, যেখানে তার সহঅভিনেতা ছিলেন কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা জর্জ বার্নস। তবে ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হঠাৎ করেই অভিনয়জগত থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

১৯৯১ সালে প্রযোজক টড কর্ম্যানকে বিয়ে করার পর ধীরে ধীরে হলিউডের ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে সরে যান জেনিফার রুনইয়ন। পরিবার ও সন্তানদের বড় করে তোলাই তখন তার জীবনের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। ছেলে ওয়ায়াট ও মেয়ে বেইলিকে নিজের যত্নে বড় করে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতাই তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছিল। তার বাবা জিম রুনইয়ন ছিলেন একজন রেডিও শিল্পী এবং মা জেন রবার্টসও কাজের কারণে ব্যস্ত থাকতেন। ফলে ছোটবেলায় তাকে অনেক সময় গৃহপরিচারিকা বা অন্যদের কাছেই থাকতে হতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

অভিনয় থেকে দূরে থাকার সময় তিনি শিক্ষকতা করেন এবং রান্নাবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানও সহউপস্থাপনা করেন। পরে সন্তানরা বড় হয়ে ওঠার পর আবার ধীরে ধীরে অভিনয়ে ফিরতে শুরু করেন। দুই হাজার দশকের দিকে ফিরে এসে বেশ কয়েকটি স্বতন্ত্র ধারার সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অভিনয়ের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেছিলেন এই অভিনেত্রী। ২০২৬ সালেও তার নতুন কিছু কাজ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন অনেক দর্শক। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার আগেই বিদায় নিতে হলো তাকে।

হলিউডের পর্দায় হয়তো তাকে আর দেখা যাবে না, কিন্তু আশির দশকের টেলিভিশন ও সিনেমার স্মৃতিতে জেনিফার রুনইয়ন থেকে যাবেন এক পরিচিত ও স্মরণীয় মুখ হয়ে।