সিনেমাপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের। এবারের আসরে মনোনয়নের দৌড়ে রায়ান কুগলারের ‘সিনার্স’ ২৪টি বিভাগের মধ্যে ১৬টিতে জায়গা করে নিয়ে রেকর্ড গড়লেও, পুরস্কারের লড়াইয়ে মূল চমক দেখিয়েছেন কিংবদন্তি নির্মাতা পল টমাস অ্যান্ডারসন। তার পরিচালিত যুদ্ধভিত্তিক মহাকাব্য ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সেরা চলচ্চিত্র এবং সেরা পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি বিভাগে অস্কার জিতে নিয়ে এবারের আসরের রাজমুকুট নিজের করে নিয়েছে। অন্যদিকে ‘সিনার্স’ সর্বোচ্চ মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত সেরা অভিনেতা এবং মৌলিক চিত্রনাট্যের মতো মর্যাদাপূর্ণ ক্যাটাগরিগুলোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
পুরস্কারের রাতে ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল হয়ে ছিলেন মাইকেল বি জর্ডান, যিনি ‘সিনার্স’ সিনেমায় তার অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার অস্কারটি নিজের ঝুলিতে পুরেছেন। নারী বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছেন জেসি বাকলি, ‘হ্যামনেট’ ছবিতে তার শক্তিশালী পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ। পার্শ্ব চরিত্রের লড়াইয়ে বাজিমাৎ করেছেন অভিজ্ঞ শন পেন এবং অ্যামি ম্যাডিগান। অভিনয়ের পাশাপাশি কারিগরি দিক থেকেও এবারের অস্কার ছিল বৈচিত্র্যময়। ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ সিনেমাটি কস্টিউম ডিজাইন, মেকআপ এবং প্রোডাকশন ডিজাইনে আধিপত্য বজায় রেখে তিনটি পুরস্কার জিতে নিয়েছে।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম আকর্ষণ আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাজিমাত করেছে ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ এবং এনিমেশন দুনিয়ায় ঝড় তোলা ‘কেপপ ডেমন হান্টার্স’ সেরা এনিমেটেড ফিচার ফিল্মের সম্মাননা পেয়েছে। চমক ছিল ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিভাগেও, যেখানে প্রত্যাশিতভাবেই পুরস্কারটি ছিনিয়ে নিয়েছে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যা’। সব মিলিয়ে এবারের অস্কার রাতটি ছিল যেমন অর্জনের, তেমনি বড় বড় তারকাদের আবেগ আর সৃজনশীলতার এক অপূর্ব মিলনমেলা। ইতিহাসের পাতায় ৯৮তম এই আয়োজনটি বিনোদন জগতের অন্যতম সফল অধ্যায় হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।