জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যখন চারপাশ ধীরে ধীরে নির্জন হয়ে আসে, তখন মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি যে চাওয়া জেগে ওঠে, তা হলো সঙ্গ। সেই সঙ্গের খোঁজেই এক দাদির সাহসী সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হয়েছে মায়া, হাসি আর আবেগে ভরা এক গল্প ‘দাদি কি শাদি’। পাকিস্তানের দর্শকের জন্য ঈদে আসছে এই বিশেষ টেলিফিল্মটি।
সমাজের প্রচলিত ধারণাকে পাশ কাটিয়ে নিজের মতো করে বাঁচার এই আকাঙ্ক্ষা যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা কখনো বয়সের সীমায় বাঁধা পড়ে না। এই গল্পে দেখা যায়, একা জীবন আর টানতে চান না দাদি। তার মন চায় পাশে একজন মানুষ থাকুক, যার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাবে দিনের ছোট ছোট অনুভূতি। কিন্তু তার এই ইচ্ছা পরিবারে সৃষ্টি করে বিস্ময়, দ্বিধা আর খানিকটা অস্বস্তি। তবুও ধীরে ধীরে সেই অস্বস্তির জায়গা নেয় কৌতূহল, তারপর মেনে নেওয়ার এক উষ্ণতা।
দাদির পাশে দাঁড়ায় তার নাতি-নাতনি। নতুন সময়ের ছোঁয়ায় তারা চেষ্টা করে দাদির জন্য উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে দিতে। এই চেষ্টার ভেতরেই জন্ম নেয় মজার সব পরিস্থিতি, কখনো হাসির, কখনো আবেগের। পরিবারের অন্য সদস্যদের দোটানা, বিস্ময় আর হাস্যরস মিলে গল্পটিকে করে তোলে প্রাণবন্ত।
একসময় দাদির দরজায় এসে হাজির হয় একদল বয়স্ক পাত্র। তাদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া যেন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। সেখানে যেমন আছে হালকা রসিকতা, তেমনি আছে জীবনের গভীর উপলব্ধি মানুষ আসলে শেষ বয়সেও ভালোবাসার আশায় বেঁচে থাকে।
গল্পের আরেকটি কোমল দিক হলো নাতি-নাতনির সম্পর্ক। দাদিকে সাহায্য করতে গিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেও তৈরি হয় ভালোবাসার বন্ধন। এ যেন ভালোবাসার আরেকটি বৃত্ত, যেখানে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে অনুভূতির স্রোত বয়ে চলে।
সব মিলিয়ে এই গল্প শুধু একটি বিয়ের কাহিনি নয়, এটি জীবনের প্রতি নতুন করে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়ার গল্প। এটি সাহসের গল্প, যেখানে সমাজের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে একজন মানুষ নিজের সুখকে গুরুত্ব দেয়। আর সেই সাহসই আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই হতে পারে নতুন শুরু।