এবারের ঈদুল ফিতরে দেশের রূপালি পর্দায় বইছে এক পশলা স্বস্তির হাওয়া, যেখানে নিছক তারকাখ্যাতির চেয়ে গল্পের জোরালো আবেদনই মুখ্য হয়ে উঠেছে দর্শকদের কাছে। প্রেক্ষাগৃহগুলোতে উপচে পড়া ভিড় আর উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝে ‘প্রিন্স’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ বা ‘প্রেশার কুকার’-এর মতো সিনেমাগুলো নিয়ে আলোচনা থাকলেও সব ছাপিয়ে এক স্নিগ্ধ আবেশ ছড়িয়ে দিচ্ছে পরিচালক তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রেক্ষাগৃহের লবি—সবখানেই এখন এই সিনেমার জয়গান।
হুমায়ূন আহমেদের গল্পের সেই চিরচেনা জাদু, যেখানে মানুষের অবাধ্য আবেগ আর নিঃশব্দ যন্ত্রণার এক অদ্ভুত মিশেল থাকে, তাকেই অত্যন্ত নিপুণভাবে সেলুলয়েডে বন্দি করেছেন তানিম নূর। পরিচালক ২০০৭ সালের সেই নস্টালজিক প্রেক্ষাপটকে অক্ষুণ্ণ রেখে এর ভিজ্যুয়াল বয়ান তৈরি করেছেন, যা দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ফেলে আসা দিনগুলোতে। সিনেমাটির মূল প্রাণ লুকিয়ে আছে এর একটি ট্রেনের যাত্রাপথে, যেখানে সহযাত্রী হিসেবে বর্তমান সময়ের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিমকে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই দুই শক্তিমান অভিনেতার দ্বৈরথ বা মিতালি এবারের ঈদের দর্শকদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তাদের পাশাপাশি আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম এবং শরীফুল রাজের মতো অভিনয়শিল্পীদের সাবলীল উপস্থিতি প্রতিটি চরিত্রকে দিয়েছে আলাদা প্রাণ।
ট্রেনের কামরার সেই চিরচেনা শব্দ আর সম্পর্কের গভীর সমীকরণগুলো নিয়ে নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শকদের নিয়ে যাচ্ছে এক ভিন্ন জগতের মুগ্ধতায়। প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হওয়া তৃপ্ত দর্শকদের মতে, নিটোল গল্পের শক্তি আর শক্তিশালী অভিনয়ের মিশেলে এটি কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং এক মানবিক অনুভূতির শৈল্পিক প্রতিফলন।