ভারতীয় বক্স অফিসে ২০২৬ সালের শুরুটা হলো রণবীর সিংয়ের একচ্ছত্র আধিপত্য দিয়ে। গত ১৯ মার্চ মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর ২’ সিনেমাটি কেবল একটি সফল ছবি হিসেবে নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের সব সমীকরণ বদলে দেওয়া এক দানবীয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। পরিচালক আদিত্য ধরের নিপুণ নির্মাণ আর রণবীর সিংয়ের দুর্দান্ত অভিনয়শৈলীতে মুগ্ধ দর্শকরা বারবার ভিড় করছেন সিনেমা হলে। মুক্তির মাত্র ছয় দিনেই সিনেমাটি বক্স অফিসের এমন সব রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিয়েছে যা আগে কখনো কোনো বলিউড তারকার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারতের বাজারে সিনেমাটির নিট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭৬ কোটি রুপি, যা হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক।
রণবীরের এই জয়রথ বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের ‘পাঠান’, রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিমেল’ এমনকি সানি দেওলের ‘গদর টু’-এর রেকর্ডকেও ম্লান করে দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে হিন্দি ভার্সনে রাজত্ব করা ‘বাহুবলী ২’ সিনেমার ৫১১ কোটির রেকর্ডটিও এখন অতীত। সপ্তাহের কাজের দিন হওয়া সত্ত্বেও ‘ধুরন্ধর ২’-এর দাপট কমার কোনো লক্ষণ নেই; বরং মঙ্গলবারও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সকালের শোতে ৩০ শতাংশের বেশি দর্শক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এটিই হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে প্রথম কোনো চলচ্চিত্র যা মুক্তির মাত্র পাঁচ দিনেই ৫০০ কোটির গণ্ডি পার করার অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে। সোমবারের ৬৫ কোটি রুপির কালেকশন যেকোনো ভারতীয় সিনেমার জন্য এখন পর্যন্ত সর্বকালের সেরা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
ট্রেড অ্যানালিস্টরা বাজি ধরছেন যে, যে গতিতে এই স্পাই ইউনিভার্সের সিনেমাটি এগোচ্ছে, তাতে খুব শিগগির এটি ৭০০ কোটির ক্লাবে নাম লেখাবে। এর আগের কিস্তি ‘ধুরন্ধর’ বিশ্বজুড়ে ১৩০০ কোটি রুপি আয় করলেও, এবার বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন এটি আমির খানের ‘দঙ্গল’-এর ২০৭০ কোটি রুপির অলটাইম রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিনেমাটিতে রণবীর সিং ছাড়াও অভিনয় করেছেন আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল এবং সারা অর্জুনের মতো তারকারা। টানটান উত্তেজনা আর আধুনিক নির্মাণশৈলীর মিশেলে ‘ধুরন্ধর ২’ এখন বিশ্বজুড়ে ভারতীয় সিনেমার নতুন এক অধ্যায় রচনা করছে।