জনপ্রিয় অভিনেতা ও সুলেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাত্র ৪৩ বছর বয়সে আকস্মিক মৃত্যুতে দুই বাংলার বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে আসলেও এই ঘটনাকে ঘিরে দানা বাঁধতে শুরু করেছে একাধিক রহস্য। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিনেতার মৃত্যুর কারণ নিয়ে এরই মধ্যে তিনটি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে যা ঘটনাটিকে বেশ জটিল করে তুলেছে।
নির্মাতা লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে তার মেগা সিরিয়ালের শুটিং শিডিউলে পানির ওপর কোনো দৃশ্য ধারণের পরিকল্পনাই ছিল না, যার ফলে প্রশ্ন উঠেছে অনুমতি ছাড়া সেখানে শুটিং করছিল কারা। এছাড়া ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চললেও স্থানীয় পুলিশকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রোডাকশন ইউনিটের একটি অংশ দাবি করছে যে শুটিং শেষে সৈকতে বেড়াতে গিয়ে জোয়ারের টানে তিনি তলিয়ে যান।
কিন্তু সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিত্র সরাসরি দাবি করেছেন যে নৌকার ওপর ড্রোনে শট নেওয়ার সময় উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় তারা দুজনেই পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন। শ্বেতা তীরে উঠতে পারলেও রাহুল পারেননি এবং দিঘা হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এমন সব অসংলগ্ন বয়ানের কারণে পুলিশ এই ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে নথিভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
অভিনেতার মৃত্যুতে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অভিনেতা অরিত্র বণিক দত্তও; তিনি বড় একটি শুটিং ইউনিটের উপস্থিতিতে রাহুলের প্রাণ বাঁচাতে না পারার বিষয়টিকে চরম গাফিলতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং এই মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা এখন পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পরই স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।