‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ থেকে বাদ পড়েছিলেন শর্মিলী আহমেদ!
২৬ নভেম্বর ২০১৭ ১১:১৪
বিনোদন ডেস্ক
স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’। আবু ইসহাকের এ উপন্যাসটিকে বড়পর্দায় আনার স্বপ্ন দেখেছিলেন দুই নির্মাতা শেখ নিয়ামত আলী ও মশিহউদ্দিন শাকের। ছবির প্রধান নারী চরিত্র জয়গুনকে খুঁজে পেতেই নির্মাতাদের লেগে গেছে পাক্কা এক বছর! যদিও ছবিটিতে এ চরিত্রে দেখা যায় ডলি আনোয়ারকে এবং তিনি পরবর্তীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন চরিত্রটির জন্য। কিন্তু মজার ঘটনা হচ্ছে, ডলি আনোয়ার নয়- চরিত্রটিতে অভিনয় করার কথা ছিলো শর্মিলী আহমেদের। একদিন শুটিংও করেছিলেন তিনি। কিন্তু কী এমন ঘটনা যে কারণে বাদ পড়েছিলেন শর্মিলী?
ঘটনা খুব সামান্য কিন্তু স্পর্শকাতর। ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’র জয়গুন চরিত্রটি একেবারেই নিম্নবিত্তের। পরিচালকদ্বয়ের ইচ্ছা ছিলো- চরিত্রটি ব্লাউজ পরবে না। তাদের যুক্তি- এ ধরণের প্রান্তিক মহিলারা সে সময় গৃহস্থালির কাজকর্ম করার সময় ব্লাউজ পরতো না। শর্মিলী আহমেদ সেটা মেনেছিলেন। কিন্তু শুটিং করার সময় তিনি এমন জড়সড়ভাবে আঁচল টেনে রাখছিলেন যে তাতে বোঝার উপায় ছিলো না গায়ে ব্লাউজ আছে কী নেই! ফলে পরিচালকের মনঃপুত হচ্ছিলো না।
শর্মিলীর কাছে মশিহউদ্দিনের চাওয়া ছিলো- ‘ভাবি, আঁচলটা একটু আলগা করে বসুন, দৃশ্যটি সুন্দরভাবে আসবে!’ কিন্তু শর্মিলী তাতে রাজি হচ্ছিলেন না। বাধ্য হয়ে শুটিং না করেই প্রথম দিন প্যাকআপ করে ঢাকায় ফিরে আসে ইউনিট। ওই রাতেই শর্মিলী আহমেদের বাসায় যান পরিচালকদ্বয়। শর্মিলী সাফ জানিয়ে দেন- ‘না ভাই। আপনি যেভাবে চাইছেন, আমার পক্ষে ওভাবে কিছু করা সম্ভব নয়।’ সাইনিংয়ের পাঁচ হাজার টাকাও ফেরত দিয়ে দেন তিনি।
শর্মিলী আহমেদের প্রত্যাখানে শেখ নিয়ামত আলী ও মশিহউদ্দিন শাকের বেশ বিপাকেই পড়ে যান। এরপর বছরখানেক ধরে চলে জয়গুনকে খোঁজার কার্যক্রম। যতোদিনে ডলি আনোয়ারকে পাওয়া গেছে ততোদিনে পরিচালকদ্বয় খবর পেয়েছেন- সাভারের নয়ারহাটে ছবির সেট হিসেবে বানানো কুঁড়েঘরটা কে বা কারা পুড়িয়ে দিয়েছে!