সকালের নরম আলো ভেদ করে ঢাকার একটি ছোট্ট জিমে শোনা যায় ঠুস ঠাস শব্দ। প্রথমে মনে হয় ঝগড়া লেগেছে— কেউ যেন কারো ওপর রাগ ঝাড়ছে। কিন্তু একটু কাছে গেলে বোঝা যায় এখানে রাগের বদলে আছে নিয়ম; হিংসার বদলে আছে ছন্দ; আর লড়াইয়ের বদলে আছে আত্মবিশ্বাস তৈরির এক শিল্প। আজ ৩০ নভেম্বর— ইন্টারন্যাশনাল কিকবক্সিং ডে। বিশ্বজুড়ে কিকবক্সিংপ্রেমীরা এই দিনটিকে উদযাপন করেন শক্তি, শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তার উৎসব হিসেবে।
কিকবক্সিং— শুধু লাথি-ঘুঁষি নয়, জীবনদর্শনের এক প্রশিক্ষণ
কিকবক্সিংকে অনেকে এখনো শুধুই ‘মারামারির খেলা’ মনে করেন। কিন্তু যারা নিয়মিত অনুশীলন করেন, তারা জানেন— এটি শরীর গড়ার পাশাপাশি মনকেও শক্ত করে।
এটি শেখায় ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা— আর নিজের সীমা অতিক্রম করার ক্ষমতা। যে কেউ একটু নিয়ম করে করলে বুঝতে পারবেন, কিকবক্সিং আসলে এক ধরনের মুভিং মেডিটেশন— প্রতিটি কিক, প্রতিটি পাঞ্চ মানসিক চাপকে দূর করে।
কেন বিশ্বে একটি আলাদা দিন?
মার্শাল আর্টের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিকবক্সিংও ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় সব মহাদেশে।
বিশেষ দিন ঠিক করার মূল উদ্দেশ্য
মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি, খেলাটির সৌন্দর্য ও নিয়ম তুলে ধরা, তরুণদের স্বাস্থ্যকর জীবনধারার প্রতি উৎসাহিত করা। এবং নারী-পুরুষ সবার জন্য আত্মরক্ষার কৌশল হিসাবে প্রচার করা।
আজ এই দিনে বিভিন্ন দেশে ওয়ার্কশপ, প্রদর্শনী, চ্যারিটি স্প্যারিং, এমনকি শিশুদের জন্য ছোট্ট ‘মিনি চ্যাম্প’ প্রতিযোগিতাও হয়।
নারীশক্তির নতুন উপলক্ষ
বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীরা কিকবক্সিং শিখছে আত্মরক্ষার জন্য। বাংলাদেশের অনেক মেয়েও এখন এই খেলায় অংশ নিচ্ছে। কিকবক্সিং শেখা নারীদের সবচেয়ে বড় শক্তি— ভয় কমে যায়। রাস্তায়, কর্মস্থলে, বা সাধারণ জীবনে একটি সচেতন ও দক্ষ দেহভঙ্গি নিজেই নিরাপত্তার বার্তা দেয়।
একজন নারী কিকবক্সারের কথায়— ‘প্রথম দিন আমি যখন গ্লাভস পরলাম, মনে হলো পৃথিবীটাকে নতুনভাবে ধরলাম।’
শরীরচর্চা, কিন্তু একটু মজার ছলে
কিকবক্সিংয়ের আরেকটি কারণ— এটি দারুণ মজার। একঘেয়ে জিম ট্রেডমিলের বদলে যখন আপনি প্যাডে আঘাত করছেন, লাফাচ্ছেন, মুভ করছেন— শরীরের সব পেশী কাজ করে, ক্যালোরি ঝরে, আর মনটা হালকা হয়ে যায়।
গবেষণা বলে— ১ ঘণ্টা কিকবক্সিংয়ে প্রায় ৭৫০ ক্যালোরি পর্যন্ত খরচ হতে পারে। মানে, দম না ফেলেই দুই প্লেট বিরিয়ানি খাওয়ার সমান হিসাব!
আজকের দিনে কী করলে ভালো?
বাড়ির ভেতর ১৫ মিনিট শ্যাডো কিক,
বন্ধুদের নিয়ে ছোট্ট মজার স্প্যারিং,
ইউটিউবে একটি বিগিনার সেশন দেখে ট্রাই করা,
বা জিমে গিয়ে নতুন ক্লাসে নাম লেখানো,
একবার শুরু করলে, বেশিরভাগ মানুষই বলে—
‘এটা তো আমার রিলিজ বাটন!’
নিজের শক্তির সঙ্গে নিজের বন্ধুত্ব
ইন্টারন্যাশনাল কিকবক্সিং ডে মনে করিয়ে দেয়, আমাদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তিকে জাগানো খুব কঠিন কিছু নয়। শক্তি মানেই কাউকে হারানো নয়— বরং নিজেকে জিতিয়ে তোলা।
আজ ৩০ নভেম্বর, দিনটি তাই একটাই কথা বলে—
নিজের শক্তিকে উদযাপন করো।
নিজেকে এগিয়ে নিতে শিখো।
আর প্রতিটি ঘুঁষি, প্রতিটি লাথিতে ঝেড়ে ফেলো জীবনের জমে থাকা ক্লান্তি।
চলো, আজকের দিনে—
পাঞ্চ করে ফেলি সব নেতিবাচকতা।