বর্তমান যুগে জিমেইল শুধু যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত ছবি, কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি-সবকিছুর চাবিকাঠি থাকে এই অ্যাকাউন্টে। তাই এই একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে পুরো ডিজিটাল পরিচয়ই ঝুঁকিতে পড়ে যায়। সাইবার অপরাধীরা নানাভাবে জি-মেইল দখলের চেষ্টা করে।
আসুন জেনে নেই এই সাইবার হামলা থেকে বাঁচতে জরুরি কিছু উপায়…
জিমেইল ও ইনস্টাগ্রাম সুরক্ষায় আপনার করণীয়
১. শক্তিশালী ও অনন্য পাসওয়ার্ড সহজ কোনো পাসওয়ার্ড (যেমন: নাম বা জন্মতারিখ) ব্যবহার না করে বড়-ছোট অক্ষর, সংখ্যা ও প্রতীকের সমন্বয়ে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন। এক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
২. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু করা এটি নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি চালু থাকলে কেউ পাসওয়ার্ড জানলেও আপনার ফোনে আসা বিশেষ কোড ছাড়া লগইন করতে পারবে না। গুগল ও ইনস্টাগ্রাম-উভয় প্ল্যাটফর্মেই এটি সক্রিয় রাখুন।
৩. সন্দেহজনক লিংক ও ফিশিং মেইল থেকে সাবধান হ্যাকাররা প্রায়ই ‘অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হবে’ বা ‘নিরাপত্তা আপডেট করুন’ বলে ভুয়া মেইল পাঠায়। জিমেইলের ক্ষেত্রে গুগল কখনো পাসওয়ার্ড চায় না এবং ইনস্টাগ্রামের অফিসিয়াল মেইল সবসময় @mail.instagram.com ডোমেইন থেকে আসে। তাই কোনো অচেনা লিংকে ক্লিক করবেন না।
৪. লগইন অ্যাক্টিভিটি ও ডিভাইস পরীক্ষা নিয়মিত আপনার অ্যাকাউন্টের Login Activity পরীক্ষা করুন। যদি কোনো অপরিচিত ডিভাইস বা অচেনা লোকেশন দেখতে পান, তবে দ্রুত পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন এবং সেই ডিভাইস থেকে সাইন-আউট করে দিন।
৫. থার্ড-পার্টি অ্যাপের অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন ফলোয়ার টুল বা এডিটিং অ্যাপে জিমেইল বা ইনস্টাগ্রাম দিয়ে লগইন করার ফলে তথ্য ফাঁস হতে পারে। সেটিংস থেকে অপ্রয়োজনীয় থার্ড-পার্টি অ্যাপের পারমিশন বাতিল করুন।
৬. রিকভারি তথ্য আপডেট রাখা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে তা ফিরে পেতে রিকভারি ইমেইল ও ফোন নম্বর অত্যন্ত জরুরি। সবসময় আপনার বর্তমান সচল নম্বরটি অ্যাকাউন্টে যুক্ত রাখুন।
৭. পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্কতা এয়ারপোর্ট বা ক্যাফেটেরিয়ার ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে সংবেদনশীল অ্যাকাউন্টে লগইন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনে ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করুন অথবা নিজের মোবাইল ডেটা ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
ইনস্টাগ্রাম তথ্য ফাঁসে বিশেষ সতর্কতা
আপনার তথ্য যদি ফাঁস হয়ে থাকে, তবে দ্রুত প্রোফাইলটি ‘Private’ করুন এবং আপনার বায়ো থেকে ফোন নম্বর বা লোকেশনের মতো সংবেদনশীল তথ্য সরিয়ে ফেলুন। অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কোনো গতিবিধি দেখলে দ্রুত ইনস্টাগ্রাম হেল্প সেন্টারে রিপোর্ট করুন।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরনও দিন দিন জটিল হচ্ছে। অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে সামান্যতম অবহেলা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিজিটাল জীবন নিরাপদ রাখতে কেবল শক্তিশালী পাসওয়ার্ডই যথেষ্ট নয়, বরং নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই এবং সচেতনতাই হতে পারে একমাত্র রক্ষার অন্যতম উপায়।