বরফে ঢাকা সাদা পৃথিবীতে কালো-সাদা কোট পরা ছোট্ট ভদ্রলোকদের হাঁটা দেখলে হাসি থামানো মুশকিল। হেলে-দুলে হাঁটা, একে অপরের পেছনে লাইন বেঁধে চলা কিংবা হঠাৎ বরফে পিছলে পড়া,সব মিলিয়ে পেঙ্গুইন যেন প্রকৃতির বানানো এক জীবন্ত কার্টুন চরিত্র। আজ ২০ জানুয়ারি, সেই হাসিখুশি প্রাণীগুলোর জন্যই পালিত হচ্ছে পেঙ্গুইন সচেতনতা দিবস।
পেঙ্গুইন মানেই শুধু মজা নয়, বরং টিকে থাকার এক অসাধারণ গল্প। উড়তে না পারলেও পানিতে তারা যেন ক্ষুদ্র রকেট। ঘণ্টায় ৩৬ কিলোমিটার গতিতে সাঁতার কাটতে পারে কিছু প্রজাতির পেঙ্গুইন। আবার প্রচণ্ড শীতে নিজেদের বাঁচাতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে গোল হয়ে দাঁড়ানোর কৌশলও তাদেরই আবিষ্কার।
মজার ব্যাপার হলো, পেঙ্গুইনরা ভীষণ রোমান্টিক। অনেক প্রজাতির পেঙ্গুইন একসঙ্গেই জীবন কাটায়। প্রিয় সঙ্গিনীকে পাথর উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করার গল্পও আছে। মানুষ যেখানে চকোলেট বা গোলাপ দেয়, সেখানে পেঙ্গুইনের ভালোবাসার ভাষা এক টুকরো সুন্দর পাথর!
তবে এই হাসি-খুশির আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর সংকট। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলছে, খাদ্যের অভাব বাড়ছে, বাসস্থান হারাচ্ছে পেঙ্গুইনরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে প্রথম ধাক্কা আসে এই প্রাণীদের জীবনেই।
পেঙ্গুইন সচেতনতা দিবস তাই শুধু মজা করে ছবি দেখা বা কার্টুন মনে করার দিন নয়। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বরফের দেশে বসবাসকারী এই নিরীহ প্রাণীগুলোর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে আমাদের আচরণের ওপর।
আজকের দিনে পেঙ্গুইনের মতোই একটু হেলে-দুলে হাঁটুন, মজার ভিডিও দেখুন, হাসুন-কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মনে রাখুন, পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য রাখাই পেঙ্গুইনদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।