ব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বড় কোনো আয়োজনের দরকার নেই। কখনো কখনো একটি নীরব আলিঙ্গনই বলে দেয় হাজার কথা। সেই ছোট্ট কিন্তু গভীর অনুভূতিকে উদ্যাপন করতেই প্রতি বছর ২১ জানুয়ারি পালিত হয় আন্তর্জাতিক আলিঙ্গন দিবস।
কোথা থেকে শুরু?
এই দিবসটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। কেভিন জ্যাবোরনি নামের একজন সমাজকর্মী লক্ষ্য করেছিলেন, মানুষ ভালোবাসা অনুভব করলেও প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করে। তাই তিনি এমন একটি দিনের প্রস্তাব দেন, যেদিন মানুষ নির্দ্বিধায় একে অন্যকে জড়িয়ে ধরবে। ধীরে ধীরে দিবসটি সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
আলিঙ্গনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
মজার ব্যাপার হলো; আলিঙ্গন শুধু আবেগ নয়, এটি বিজ্ঞানেরও প্রমাণিত সুখ।গবেষণায় দেখা গেছে, আলিঙ্গনে শরীরে অক্সিটোসিন নামের ‘ভালো লাগার হরমোন’ নিঃসৃত হয় স্ট্রেস কমে, মন শান্ত হয়। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে একাকিত্ব ও বিষণ্নতা কমাতে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ, ফ্রি থেরাপি, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই!
মজার আলিঙ্গন সংস্কৃতি
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দিনটিকে ঘিরে হয় নানা রকম মজার আয়োজন। কোথাও ‘ফ্রি হাগ’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েন মানুষ। কোথাও অফিসে ‘হাগ ব্রেক’। আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে #HugDay ট্রেন্ড।
বাংলাদেশেও তরুণদের মধ্যে এই দিনে বন্ধুদের আলিঙ্গন, ছবি পোস্ট আর ক্যাপশনবাজির চল দেখা যায়।
সব আলিঙ্গন কি এক রকম?
একদম না! মায়ের আলিঙ্গন, সবচেয়ে নিরাপদ।
বন্ধুর আলিঙ্গন, হালকা আর উচ্ছ্বাসে ভরা।
ভালোবাসার মানুষের আলিঙ্গন- নীরব কিন্তু গভীর।
আর দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়া মানুষের আলিঙ্গন- কথার দরকারই পড়ে না।
একটু সচেতনতা
তবে মনে রাখতে হবে; আলিঙ্গন ভালোবাসার প্রতীক হলেও সম্মতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবাই আলিঙ্গনে স্বচ্ছন্দ নাও হতে পারেন। তাই অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গে সম্মানটুকুও জরুরি।
শেষ কথা
যে সমাজে মানুষ দিন দিন একা হয়ে পড়ছে, সেখানে একটি আলিঙ্গন হতে পারে মানসিক উষ্ণতার ছোট্ট আগুন। তাই আজ ২১ জানুয়ারি; একটু সময় বের করে প্রিয় মানুষটিকে জড়িয়ে ধরুন।
কারণ, কখনো কখনো একটি আলিঙ্গনই বলে দেয় – ‘তুমি একা নও।’