Wednesday 21 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মৃত্যুর পরও যেসব অঙ্গ নীরবে ‘বেঁচে থাকে’!

ফারহানা নীলা স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২১

মৃত্যু মানেই সবকিছুর সমাপ্তি— এমন ধারণা আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত। হৃদস্পন্দন থেমে গেলে, নিঃশ্বাস বন্ধ হলে আমরা ধরে নিই শরীরও নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মানুষের শরীর এক মুহূর্তে থেমে যায় না। বরং মৃত্যুর পরও কিছু অঙ্গ, কোষ ও স্নায়ু ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন সক্রিয় থাকতে পারে।

এই কারণেই মৃত্যুর পরপরই মৃত রোগীর শরীর থেকে বিভিন্ন অঙ্গ অন্য মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়— যা নতুন জীবন বাঁচায়।

মৃত্যুর পর কোন অঙ্গ কতক্ষণ ‘সতেজ’ থাকে?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী—
হৃদপিণ্ড: মৃত্যুর পর প্রায় ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সজীব থাকে,
লিভার (যকৃত): প্রায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা,
কিডনি: সবচেয়ে বেশি সময় কার্যকর থাকে প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত,
চোখের কর্নিয়া: মৃত্যুর পর ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা ব্যবহারযোগ্য,
— এই অঙ্গগুলোর কোষ মৃত্যুর পরও কাজ করতে থাকে বলেই দ্রুত প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়। তাই অঙ্গদানে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর পরও কি নখ ও চুল বাড়ে?

অনেকেই বলে থাকেন, মৃত্যুর পরও মানুষের নখ, চুল কিংবা দাড়ি বাড়তে থাকে। বাস্তবে—
নখ বা চুল আসলে নতুন করে বাড়ে না,
মৃত্যুর পর শরীরের ত্বক শুকিয়ে সঙ্কুচিত হয়,
ফলে নখ ও চুল তুলনামূলক লম্বা মনে হয়,
এই ভিজ্যুয়াল পরিবর্তন থেকেই জন্ম নিয়েছে এই প্রচলিত ধারণা।

মৃতদেহ থেকে প্রস্রাব বের হওয়া— কেন ঘটে?

মৃত্যুর পর অনেক সময় দেখা যায় মৃতদেহ থেকে প্রস্রাব নির্গত হচ্ছে।
এর কারণ—
মৃত্যুর পর মূত্রথলির পেশি শিথিল হয়ে যায়,
স্নায়ুতন্ত্র ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হওয়ায় ব্লাডার নিজে থেকেই খালি হতে পারে,
এটি একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া

মৃতদেহ নড়ে ওঠে কেন?

অনেক সময় মৃত ব্যক্তির হাত-পা নড়তে দেখা যায়, যা অনেকের কাছে রহস্যময় বা ভয়ংকর মনে হয়। বিজ্ঞান বলছে—
মৃত্যুর পরও স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি বন্ধ হতে কিছুটা সময় লাগে,
স্নায়ুতে জমে থাকা বৈদ্যুতিক সংকেত পেশিকে সংকুচিত করতে পারে,
পেশী শক্ত (rigor mortis) হয়ে গেলেও এই নড়াচড়া ঘটতে পারে,
এটি কোনো জীবিত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং মৃত্যুর পরবর্তী স্বাভাবিক জৈব প্রক্রিয়া।

চোখ দান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন: জীবনের নতুন আলো

মৃত্যুর পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চোখ অপসারণ করে অন্য রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করলে সেটি কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বহু মানুষ নতুন করে দেখতে পান।

চোখ ছাড়াও— কিডনি, হার্ট, লিভার— এই অঙ্গগুলো নিয়মিত প্রতিস্থাপন করা হয়, কারণ এদের কোষ মৃত্যুর পরও কিছু সময় কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

সবচেয়ে বেশি সময় ‘বেঁচে থাকে’ কোন অঙ্গ?

যদি প্রশ্ন হয়—মৃত্যুর পর শরীরের কোন অংশ সবচেয়ে বেশি সময় টিকে থাকে?
উত্তর—
ত্বক ও হাড়: বিশেষ সংরক্ষণে প্রায় ৫ বছর পর্যন্ত,
হৃদযন্ত্রের ভালভ: প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণযোগ্য,
এই কারণেই এগুলো চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত মূল্যবান।

শেষ কথা

মৃত্যু কোনো হঠাৎ থামা নয়— এটি একটি ধীর প্রস্থান। কেউ আগে থামে, কেউ পরে। মানুষ চলে গেলেও তার শরীরের কিছু অংশ অন্যের শরীরে জীবন হয়ে ফিরে আসে— এটাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে মানবিক দিক।

অঙ্গদানের মাধ্যমে তাই মৃত্যুর মধ্যেও জন্ম নিতে পারে বহু নতুন জীবন।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর