বিমান ভ্রমণকে সাধারণত সবচেয়ে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থার একটি বলা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত পাইলট ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে আকাশপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে পৃথিবীর কিছু কিছু বিমানবন্দর আছে, যেখানে অবতরণ ও উড্ডয়ন রীতিমতো দুঃসাহসিক অভিযান। প্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমিত অবকাঠামো এসব বিমানবন্দরকে করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বিপদজনক।
লুকলা বিমানবন্দর, নেপাল
বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দরের তালিকায় শীর্ষে থাকে তেনজিং-হিলারি বিমানবন্দর, যা লুকলা নামেই বেশি পরিচিত। এটি এভারেস্ট অঞ্চলের প্রবেশদ্বার। রানওয়ে মাত্র ৫২৭ মিটার লম্বা, এক প্রান্তে পাহাড় আর অন্য প্রান্তে গভীর খাদ। আবহাওয়া মুহূর্তেই বদলে যায়, কুয়াশা ও ঝড় পাইলটদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে অবতরণ করতে হলে বিশেষ প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক।
প্রিন্সেস জুলিয়ানা বিমানবন্দর
এই বিমানবন্দরের রানওয়ের সামনে জনপ্রিয় মাহো বিচ। বিমান অবতরণের সময় এত নিচ দিয়ে উড়ে আসে যে, পর্যটকেরা প্রায় হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলতে পারেন। যদিও এটি দুর্ঘটনার জন্য কুখ্যাত নয়, তবে সামান্য ভুল মারাত্মক হতে পারে।
পারো বিমানবন্দর, ভুটান
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত পারো বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম কঠিন অবতরণস্থল। চারপাশে পাহাড়, সরু উপত্যকা আর সীমিত রানওয়ে।সব মিলিয়ে এখানে নামতে পারেন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাইলট। এখানে রাতে বা খারাপ আবহাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল প্রায় অসম্ভব।
মাদেইরা বিমানবন্দর, পর্তুগাল
সমুদ্রের ওপর নির্মিত সম্প্রসারিত রানওয়ের জন্য পরিচিত মাদেইরা বিমানবন্দর। প্রবল পার্শ্ববাতাস (crosswind) পাইলটদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে এখানে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার পর রানওয়ে উন্নত করা হয়। তবুও এটি আজও ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত।
লা পাজ বিমানবন্দর, বলিভিয়া
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩,৩২৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এল আল্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বিমানবন্দরগুলোর একটি। উচ্চতার কারণে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমে যায়, যাত্রীদেরও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। পাইলটদের জন্য এখানে উড্ডয়ন ও অবতরণ বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে।
কেন এত ঝুঁকি?
এই বিমানবন্দরগুলো বিপদজনক হওয়ার পেছনে রয়েছে –
পাহাড়ি বা দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান,
ছোট ও সীমিত রানওয়ে,
হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন,
প্রবল বাতাস ও কম দৃশ্যমানতা।
তবুও রোমাঞ্চ!
বিপদজনক হলেও এসব বিমানবন্দর আধুনিক এভিয়েশন দক্ষতার এক অনন্য উদাহরণ। দক্ষ পাইলট ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ নিরাপদে যাতায়াত করছে। তবে যাত্রী হিসেবে এসব বিমানবন্দরে নামার সময় একটু ভয়, একটু রোমাঞ্চ— দুটোই সঙ্গে থাকে। কারণ, কখনো কখনো গন্তব্যে পৌঁছানোর গল্পটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা।