প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব হিজাব দিবস (World Hijab Day)। অনেকের কাছে এটি কেবল একটি পোশাক বা ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতীক মনে হলেও, বাস্তবে হিজাব কোটি কোটি নারীর কাছে পরিচয়, বিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার এক শক্তিশালী ভাষা।
এক দিনের ভাবনা, বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনি
বিশ্ব হিজাব দিবসের সূচনা হয় ২০১৩ সালে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি নারী নাজমা খান এই দিবসটির প্রবর্তন করেন। শৈশবে ও কৈশোরে হিজাব পরার কারণে বর্ণবাদ, বিদ্রূপ ও বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর ভাবনায় আসে, একটি দিন থাকবে, যেদিন হিজাবকে বোঝার চেষ্টা করা হবে, বিচার নয়।
এই দিবসের মূল আহ্বান
‘একদিনের জন্য হলেও হিজাবকে অনুভব করো, নারীদের পছন্দকে সম্মান করো।’
আজ এই উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে।
হিজাব: বাধ্যবাধকতা নয় পছন্দ
বিশ্ব হিজাব দিবস হিজাব চাপিয়ে দেওয়ার কোনো প্রচারণা নয়। বরং এটি নারীর নিজস্ব সিদ্ধান্তের স্বাধীনতাকে সামনে আনে। কেউ হিজাব পরবেন, কেউ পরবেন না এই সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। দিবসটি সেই পছন্দকে সম্মান করার বার্তা দেয়।
বিশ্বের অনেক মুসলিম নারী হিজাবকে দেখেন আত্মপরিচয়ের অংশ হিসেবে, ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ হিসেবে, দৃষ্টিভঙ্গির বদলে চরিত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতীক হিসেবে।
আবার অনেক অমুসলিম নারীও এই দিনে হিজাব পরেন, কৌতূহল ও সংহতির প্রকাশ হিসেবে।
বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ
ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে হিজাব পরা নারীরা এখনো কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনজীবনে বৈষম্যের মুখে পড়েন। কোথাও নিষেধাজ্ঞা, কোথাও সামাজিক চাপ, সবকিছুর মাঝেই বিশ্ব হিজাব দিবস হয়ে উঠেছে এক শান্ত প্রতিবাদের দিন।
এই দিবস মনে করিয়ে দেয়; মানুষকে বিচার করা হোক তার চিন্তা, আচরণ ও মানবিকতায়, পোশাকে নয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
বাংলাদেশে হিজাব বহুল পরিচিত হলেও, এখানেও নারীর পোশাক নিয়ে নানা সামাজিক মন্তব্য ও চাপ রয়েছে। বিশ্ব হিজাব দিবস সেই চর্চাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়, নারীর পোশাক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কি আদৌ নারীর হাতে?
সম্মানের মধ্যেই সহাবস্থান
বিশ্ব হিজাব দিবস শেষ পর্যন্ত কোনো বিভাজনের গল্প নয়। এটি সহানুভূতি, বোঝাপড়া ও সম্মানের গল্প। হিজাব হোক বা না হোক, নারী যেন নিজের পরিচয় নিজেই বেছে নিতে পারেন, সেটাই এই দিনের মূল বার্তা।