বসন্ত কবে আসবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে কোথাও আবহাওয়া অফিসে যেতে হয় না, আবার কোথাও সেই দায়িত্ব পড়ে যায় একটুখানি কাঠবিড়ালির ওপর! যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় এমনই এক ব্যতিক্রমী দিবস, ‘গ্রাউন্ডহগ ডে’।
এই দিনে ‘গ্রাউন্ডহগ’ নামের এক ধরনের মোটা কাঠবিড়ালিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বের করা হয় তার গর্ত থেকে। এরপর শুরু হয় প্রতীক্ষা। সে কি নিজের ছায়া দেখবে, নাকি দেখবে না?
লোককথা অনুযায়ী
গ্রাউন্ডহগ যদি নিজের ছায়া দেখে, তবে শীত নাকি আরও ছয় সপ্তাহ থাকবে। আর যদি ছায়া না দেখে, তাহলে ধরে নেওয়া হয়, বসন্ত খুব শিগগিরই হাজির। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যাই হোক, উৎসাহে কোনো কমতি নেই!
পাংক্সাটনি ফিল: তারকাখ্যাত কাঠবিড়ালি
গ্রাউন্ডহগ ডে মানেই যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ছোট শহর পাংক্সাটনি। এখানকার বিখ্যাত গ্রাউন্ডহগটির নাম ‘পাংক্সাটনি ফিল’। প্রতি বছর হাজারো মানুষ, মিডিয়া আর পর্যটকের সামনে ফিলকে গর্ত থেকে বের করা হয় রাজকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
মজার বিষয় হলো, ফিলের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ ভুলও হয় প্রায়ই! তবু মানুষ হাসিমুখে বিশ্বাস করে, কারণ এখানে ভবিষ্যৎ জানার চেয়ে উৎসবের আনন্দটাই বড়।
কোথা থেকে এলো এই অদ্ভুত রীতি?
গ্রাউন্ডহগ ডে’র শিকড় ইউরোপীয় লোকজ বিশ্বাসে। জার্মান অভিবাসীরা এই রীতিটি আমেরিকায় নিয়ে আসেন। ইউরোপে একসময় হেজহগ বা ব্যাজার দিয়ে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করা হতো। নতুন দেশে এসে তারা দায়িত্বটা দিয়ে দেন গ্রাউন্ডহগের হাতে।
সিনেমা থেকে পপ কালচার
১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় হলিউড সিনেমা ‘Groundhog Day’ এই দিবসকে বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিত করে তোলে। সেই থেকেই দিনটি শুধু আবহাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং এক ধরনের সংস্কৃতিক উৎসব।
একটু হাসি, একটু শীত-বসন্তের গল্প
গ্রাউন্ডহগ ডে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সব কিছুতেই যুক্তি আর হিসাবের প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো একটি কাঠবিড়ালির ছায়া দেখা-না দেখাই মানুষকে একত্র করে, হাসায়, আর শীতের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।