প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করলেও, এর অপব্যবহার তৈরি করছে নতুন আপদ। বর্তমানে ‘ভয়েস ক্লোনিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুহূর্তেই হুবহু অন্যের কণ্ঠ নকল করে চলছে নানামুখী অপরাধ। কয়েক সেকেন্ডের অডিও নমুনা থেকেই তৈরি হচ্ছে ভুয়া বার্তা। এই ডিজিটাল জালিয়াতি থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পাঁচটি দিক খেয়াল রাখলে সহজেই কৃত্রিম কণ্ঠস্বর শনাক্ত করা সম্ভব…
আবেগ ও টোনের অস্বাভাবিকতা পর্যবেক্ষণ
মানুষের কথা বলার সময় কণ্ঠস্বরে স্বাভাবিক ওঠানামা, আবেগ এবং নির্দিষ্ট বিরতিতে শ্বাস নেওয়ার শব্দ থাকে। কিন্তু এআই-জেনারেটেড ভয়েস অনেক সময় অতিরিক্ত নিখুঁত বা যান্ত্রিক শোনায়। বাক্যের ভুল জায়গায় জোর দেওয়া বা কোনো কারণ ছাড়াই রোবোটিক টোন থাকলে সতর্ক হোন।
তথ্যের সংবেদনশীলতা ও যৌক্তিকতা যাচাই
যদি পরিচিত কারও কণ্ঠে হঠাৎ করে জরুরি অর্থ সাহায্য, ওটিপি (OTP) বা পাসওয়ার্ড চাওয়া হয়, তবে শুরুতেই বিশ্বাস করবেন না। কলটি কেটে দিয়ে অন্য মাধ্যমে বা সরাসরি ফোন করে পরিচয় নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, প্রতারকরা সাধারণত আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
অডিও অ্যানালাইসিস টুলের ব্যবহার
ডিপফেক বা ক্লোন করা কণ্ঠ শনাক্ত করতে বর্তমানে বেশ কিছু সাইবার সিকিউরিটি টুল ও সফটওয়্যার পাওয়া যায়। এসব টুল অডিওর ফ্রিকোয়েন্সি এবং ডিজিটাল প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে সেটি আসল না কৃত্রিম তা বলে দিতে পারে। সন্দেহজনক অডিওর ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অকারণে ভয়েস ক্লিপ বা দীর্ঘ অডিও বার্তা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। অপরাধীরা এসব পাবলিক প্ল্যাটফর্ম থেকেই আপনার কণ্ঠের নমুনা সংগ্রহ করে। এছাড়া, সংবেদনশীল অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) এবং প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের সাথে একটি নির্দিষ্ট ‘সেফটি কোড’ ব্যবহার করতে পারেন।
আইনি সহায়তা ও তাৎক্ষণিক রিপোর্ট
ভয়েস ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ প্রতারণার শিকার হলে দেরি না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে জানান। বাংলাদেশে প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় এ ধরনের অপরাধ দণ্ডনীয়।