বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে আত্মহত্যা’র প্রবণতা। কিশোর-কিশোরীদের মাঝে আত্মহত্যা’র প্রবণতা কমাতে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম এক যুগান্তকারী ফিচার চালু করতে যাচ্ছে। এখন থেকে কোনো কিশোর ব্যবহারকারী যদি অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার ‘আত্মহত্যা’ বা ‘আত্মক্ষতি’ সংক্রান্ত বিষয় অনুসন্ধান (Search) করে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার অভিভাবকের কাছে সতর্কবার্তা বা নোটিফিকেশন চলে যাবে।
নতুন এই ব্যবস্থা যেভাবে কাজ করবে…
মেটা (Meta) জানিয়েছে, এই ফিচারটি মূলত কিশোরদের জীবন বাঁচাতে এবং অভিভাবকদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করবে। এর কার্যপদ্ধতি হলো:
নিবন্ধন: কেবল যেসব অভিভাবক ইনস্টাগ্রামের ‘Parental Supervision’ (অভিভাবক পর্যবেক্ষণ) ব্যবস্থায় নিবন্ধিত, তারাই এই সুবিধা পাবেন।
সতর্কবার্তার মাধ্যম: অভিভাবকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইমেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ বা সরাসরি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই অ্যালার্ট পাঠানো হবে।
এআই চ্যাট নজরদারি: ইনস্টাগ্রামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চ্যাটেও যদি কোনো কিশোর আত্মক্ষতি নিয়ে আলোচনা করে, তবে সেটিও শনাক্ত করে অভিভাবককে জানানো হবে।
আগের ব্যবস্থার সাথে পার্থক্য
ইনস্টাগ্রাম আগে থেকেই ক্ষতিকর কনটেন্ট ফিল্টার করে আসছিল। তবে নতুন এই আপডেটে সরাসরি অভিভাবককে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে…
* আগে সার্চ করলে কেবল মানসিক সহায়তার ‘হেল্পলাইন’ নম্বর দেখানো হতো।
* এখন হেল্পলাইনের পাশাপাশি অভিভাবককেও তাৎক্ষণিক সতর্ক করা হবে, যাতে সময়মতো মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।
প্রাথমিক পর্যায় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফিচারটি প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় চালু হচ্ছে। সফল পর্যবেক্ষণের পর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেও এটি সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে মেটার।
কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব এবং আসক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে মেটার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সমালোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্ল্যাটফর্মকে আরও দায়িত্বশীল ও নিরাপদ প্রমাণ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিল প্রতিষ্ঠানটি।