Thursday 05 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শিশু ধর্ষণ: নিরাপত্তা কোথায়?

সানজিদা যুথী সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:০২

শিশু— যাদের হাসিতে ভরে ওঠার কথা প্রতিটি ঘর, যাদের হাতে থাকার কথা রঙিন খাতা, খেলনা আর স্বপ্নের ভবিষ্যৎ। সেই শিশুরাই এখন একের পর এক সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—এই রাষ্ট্র কি তার শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছে?

গত এক সপ্তাহেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। তাহিয়া, বিন্তি, আমেনা, তাবাসসুম, ইকরা ও জামিলার পর সবশেষ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাত বছরের শিশু ইরার মর্মান্তিক মৃত্যু নতুন করে নাড়া দিয়েছে দেশকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্ষণের পর গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায়ও উদ্ধার হয়েছে এক শিশুর লাশ, যা পাওয়া যায় একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে। দিনাজপুরে সম্পত্তির লোভে হত্যা করা হয়েছে শিশু সিরাজুল আল শামসকে। ফরিদপুরে কর্মস্থলে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে এক শিশু শ্রমিক। এসব ঘটনার প্রতিটিই শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকেই গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য বলছে, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ২৪৩টি। জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৭টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

শুধু ধর্ষণের ঘটনাই জানুয়ারিতে ছিল ৩৪টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩৩টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘটনায় দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা এবং শিশুদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব, সামাজিক অবক্ষয় এবং নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি—এসব কারণেই এমন ভয়াবহ অপরাধ ক্রমশ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ায় অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়ছে বলে মনে করেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পরিবার ও সমাজে নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এবং সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

কারণ প্রতিটি সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়—এর পেছনে আছে একটি শিশুর অসমাপ্ত জীবন, একটি পরিবারের ভাঙা স্বপ্ন এবং এক মায়ের বুকভরা কান্না।

আর তাই প্রশ্ন উঠছে—আর কত?

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, নাকি এমন খবরই বারবার শিরোনাম হয়ে ফিরে আসবে?

সারাবাংলা/এসজে/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সানজিদা যুথী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর