বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের ইতিহাস কেবল এক দশকের নয়, বরং এর শিকড় নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে। ১৯৯৯ সালের দিকে যখন দেশে ইন্টারনেটের প্রসার অত্যন্ত সীমিত ছিল, তখন মূলত প্রবাসীদের টার্গেট করে কয়েকটি গিফট শপ অনলাইন কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম দিকের ই-কমার্স উদ্যোগগুলোর মধ্যে ‘মুন্সিজি’ এবং ‘অঞ্জুমান’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যারা প্রবাসীদের জন্য উপহার পাঠানোর সেবা দিয়ে এ খাতের প্রাথমিক বীজ বপন করেছিল।
পরবর্তীতে ২০০৬-০৭ সালের দিকে ‘বিডিশপার্স’ বা ‘সেলবাজার’-এর মতো ক্লাসিফাইড সাইটগুলো সি-টু-সি মডেলের ধারণা জনপ্রিয় করতে শুরু করে। তবে প্রকৃত অর্থে ব্যবসায়িক রূপান্তর ঘটে ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে। সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ভিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ২০১২ সালে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ স্থাপনের ফলে অনলাইন লেনদেন বৈধতা পায়। এই সময়কালে রকমারি, আজকের ডিল এবং পরবর্তীতে বিদেশি বিনিয়োগে আসা দারাজ বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারের ভিত্তি গড়ে দেয়। একই সময়ে খাস ফুড বা চালডাল-এর মতো বিশেষায়িত সেবাগুলো মানুষের নিত্যপণ্যের কেনাকাটায় আমূল পরিবর্তন আনে।
শুরুর সময়টা ছিল চরম অনিশ্চয়তার। তখন ইন্টারনেটের গতি ছিল ধীর, মানুষের মনে ছিল অনলাইনের পণ্য নিয়ে গভীর অবিশ্বাস। সেই প্রতিকূল সময়ে যারা সাহস করে এই ব্যবসায় নেমেছিলেন, তারা কেবল মুনাফার জন্য আসেননি, বরং একটি আগামীর স্বপ্ন দেখেছিলেন যা আজ বাস্তব।
ই-ক্যাব গঠনের নেপথ্য ও ১০ বছরের পরিক্রমা
২০১৪ সালের দিকে বাংলাদেশে ই-কমার্স একটি অগোছালো অবস্থায় ছিল। কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর সঙ্গে উদ্যোক্তাদের দ্বন্দ, পেমেন্ট গেটওয়ের জটিলতা এবং সরকারি নীতিমালার অভাব দূর করতে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে ৮ নভেম্বর ২০১৪ সালে ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় একদল তরুণ উদ্যোক্তার হাত ধরে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) আত্মপ্রকাশ করে।
বিগত ১০ বছরে ই-ক্যাবের ভূমিকা বিশ্লেষণ
বিগত এক দশকে ই-ক্যাব কেবল একটি ট্রেড বডি হিসেবে নয়, বরং এই খাতের অভিভাবক হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করেছে। তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল ২০১৮ সালের ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা এবং ২০২১ সালের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা প্রণয়নে সরকারকে কারিগরি সহায়তা দেয়া। কভিড-১৯ মহামারীর সময় যখন পুরো দেশ অচল ছিল, তখন ই-ক্যাব স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য ডেলিভারির অনুমতি নিশ্চিত করে, যা দেশের লজিস্টিক খাতকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
তবে একই সময়ে ইভ্যালি, ধামাকা বা ই-অরেঞ্জের মতো বিতর্কিত এমএলএম ধাঁচের ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর উত্থান ঠেকাতে ই-ক্যাবের শৈথিল্য এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। এই ব্যর্থতাটি মূলত রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং সংগঠনের ভেতরের কিছু মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে ঘটেছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বিশেষ করে এসক্রো সিস্টেম চালু করতে বিলম্ব হওয়া এবং এমএলএম মডেলে অস্বাভাবিক ছাড়ের বিরুদ্ধে সঠিক সময়ে কঠোর অবস্থান না নেয়া ই-ক্যাবের গত এক দশকের ইতিহাসে একটি বড় বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।
একটি সংগঠনের সফলতা কেবল নীতিমালা তৈরিতে নয়, বরং সেই নীতিমালার অপব্যবহার রোধেও নিহিত। গত ১০ বছরে ই-ক্যাব যতটা অবকাঠামো গড়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে নৈতিক পাহারাদার হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে। এই বিতর্কিত অধ্যায়টিই আজ সংস্কারের মূল তাগিদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণ ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান
বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারের আকার এখন আর কেবল ঢাকা বা চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক নেই। ২০২৪-২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারের বার্ষিক লেনদেন প্রায় ২২,০০০ থেকে ২৫,০০০ কোটি টাকা।
ই-ক্যাবের প্রতিনিধিত্ব ও বাজার হিস্যা
বর্তমানে বাংলাদেশে সক্রিয় অনলাইন পেজ বা ওয়েবসাইটের সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষাধিক। এর মধ্যে ই-ক্যাবের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২,৫০০ এর ওপরে। যদিও সংখ্যার বিচারে এটি খুব নগণ্য (১ শতাংশের কম), কিন্তু অর্থনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে ই-ক্যাব সদস্যরাই বাজারের মূল চালিকাশক্তি। মোট অনলাইন লেনদেনের প্রায় ৬০ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয় ই-ক্যাবভুক্ত বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে প্রায় ৮০ লক্ষ থেকে ১ কোটি পার্সেল ডেলিভারি করে থাকে। বাজারের বাকি ৩৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ দখল করে আছে ফেসবুক ভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। এই বড় একটি অংশ এখনও ই-ক্যাবের কাঠামোর বাইরে রয়ে গেছে।
তথ্যমতে, এই অসংগঠিত বাজারে বার্ষিক প্রায় ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যার সিংহভাগই ক্যাশ অন ডেলিভারি নির্ভর। এই ক্যাশ অন ডেলিভারি নির্ভরতা কমানোর জন্য ই-ক্যাবকে এখন একটি ক্যাশলেস সোসাইটি বা ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গ্রামীণ পণ্যকে (যেমন: কুষ্টিয়ার তিলখাজা বা খাগড়াছড়ির কফি) বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য ই-ক্যাবকে একটি স্মার্ট ভ্যালু চেইন এবং এক জেলা এক পণ্য প্রকল্পের ওপর কাজ করতে হবে।
৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপট ও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী নতুন অধ্যায়
৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ই-ক্যাবের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেকে একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও পেশাদার সংগঠনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা। বিগত সময়ে অভিযোগ ছিল যে, সংগঠনের শীর্ষ পদগুলো রাজনৈতিক প্রভাবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি দখল করে রেখেছিলেন, যারা সাধারণ সদস্যদের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যস্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি তুলেছিলেন। তারা বিগত দীর্ঘ মেয়াদী কমিটির আর্থিক অডিট এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের তদন্ত দাবি করেছিলেন। এর ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসক নিয়োগ এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনী বোর্ড গঠনের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি হয়।
নির্বাচিত নতুন সরকারের সময় ই-ক্যাবের বর্তমান ভূমিকা
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ই-ক্যাবের জন্য এক নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। এই নির্বাচিত সরকারের অধীনে ই-কমার্সকে একটি মূলধারার অর্থনৈতিক স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি কি কেবল ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হবে নাকি অরাজনৈতিক সংগঠন হবে তা নির্ভর করছে বর্তমান নেতৃত্বের পদক্ষেপের ওপর। যদি ই-ক্যাব এখন একটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকার মাধ্যমে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, তবে এটি নিম্নোক্ত ভূমিকা পালন করতে পারবে…
ক্রস-বোর্ড ই-কমার্স: বাংলাদেশের পণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য আইনি জটিলতা দূর করা।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি ও ট্যাক্স হলিডে: ফেসবুক ভিত্তিক উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্স কাঠামোর মধ্যে এনে তাদের বৈধতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে নতুন বা নারী উদ্যোক্তাদের প্রথম ৩-৫ বছর একটি নির্দিষ্ট টার্নওভার পর্যন্ত ট্যাক্স হলিডে সুবিধা দেয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে লবিং করা ই-ক্যাবের অন্যতম দায়িত্ব।
গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধার ও ট্রাস্টমার্ক: বিগত বছরগুলোর স্ক্যামের কারণে সাধারণ মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে কঠোর মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। বিশেষ করে, ই-ক্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি ই-ক্যাব ট্রাস্টমার্ক বা ডিজিটাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি, যা গ্রাহকদের নিরাপদ কেনাকাটার গ্যারান্টি দেবে।
বিরোধ নিষ্পত্তি: গ্রাহক ও উদ্যোক্তার দ্বন্দ্ব নিরসনে ই-ক্যাবের নিজস্ব একটি অনলাইন ডিসপিউট রেজোলিউশন সেল থাকা প্রয়োজন, যাতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা যায়।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব: ই-ক্যাবকে এখন একটি বিশুদ্ধ ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে পরিচালিত হতে হবে, যেখানে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে ব্যবসায়িক দক্ষতা প্রাধান্য পাবে। রাজনৈতিক পরিচয়ে ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা ঋণ সুবিধা পাওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তা বন্ধ করতে হবে।
অসংগঠিত ৫ লক্ষ উদ্যোক্তার প্রতিনিধিত্ব ও সদস্য পদের স্বচ্ছতা
বর্তমানে একটি বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ই-ক্যাবের বাইরের এই ৫ লক্ষাধিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের হয়ে কথা বলবে কে? যদি ই-ক্যাব কেবল বড় প্রতিষ্ঠানের ক্লাব হয়ে থাকে, তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দাবি উপেক্ষিত থেকে যাবে। এ ছাড়া, ই-ক্যাবের বর্তমান সদস্য তালিকার মধ্যেও অনেক অব্যবসায়িক বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান সদস্য হয়ে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যারা মূলত ভোটের রাজনীতি বা প্রভাব বিস্তারের জন্য মেম্বারশিপ নিয়ে রেখেছে।
একজন সাধারণ ফেসবুক উদ্যোক্তার কাছে ই-ক্যাব এখনও একটি দূরবর্তী আভিজাত্যের প্রতীক। এই দূরত্ব না ঘুচলে এবং ভুয়া সদস্যদের ভিড়ে প্রকৃত মেধাবীরা কোণঠাসা হয়ে থাকলে ই-কমার্সের সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। সংগঠনের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি।
এই সংকট নিরসনে করণীয় ও নতুন প্রস্তাবনা
সহযোগী সদস্য পদ: ৫ লক্ষ উদ্যোক্তার একটি বড় অংশকে ই-ক্যাবের কাঠামোর নিচে আনতে সদস্য পদ সহজীকরণ এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
সদস্য পদ যাচাই ও ক্লিন-আপ ড্রাইভ: ই-ক্যাবকে একটি কঠোর অডিট বা স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ভুয়া বা অব্যবসায়িক মেম্বারশিপ বাতিল করতে হবে। প্রতি বছর একটি অ্যানুয়াল কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে, যাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাই সংগঠনের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারেন।
প্রযুক্তি, এআই ও সাইবার সিকিউরিটি: ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে ই-ক্যাবকে তাদের সদস্যদের জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ডেটা প্রাইভেসি সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করে দিতে হবে। একইসঙ্গে একটি সেন্ট্রাল কমপ্লেন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম শক্তিশালী করার পাশাপাশি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য সাইবার ইন্স্যুরেন্স বা বিমা সুবিধা নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে হ্যাকিং বা ডেটা চুরির মতো ঘটনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া না হয়ে যান।
লজিস্টিক ও সাপ্লাই চেইন উন্নয়ন: প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের পণ্য সরবরাহে লজিস্টিক ব্যয় কমানোর জন্য সরকারের সঙ্গে মিলে সেন্ট্রাল লজিস্টিক হাব বা স্মার্ট ওয়্যারহাউজিং নীতিমালা তৈরিতে ই-ক্যাবকে কাজ করতে হবে।
জেলাভিত্তিক ই-কমার্স ক্লাস্টার গঠন: ঢাকার বাইরে ই-কমার্স ছড়িয়ে দিতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ইনকিউবেশন সেন্টার বা হেল্প ডেস্ক স্থাপন করতে হবে, যাতে সেই ৫ লক্ষ উদ্যোক্তা মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার সেতু খুঁজে পায়।
অরাজনৈতিক সংগঠন নাকি ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার?
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ই-ক্যাব বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের অবকাঠামো তৈরিতে অপরিসীম ভূমিকা রাখলেও রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির কারণে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির পরবর্তী সময়ে নতুন নির্বাচিত সরকারের অধীনে সংগঠনটিকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ই-ক্যাবকে এখন রাজনৈতিক বলয়মুক্ত একটি বুদ্ধিবৃত্তিক থিংক ট্যাংক বা গবেষণা সেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে, যা প্রতি বছর বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে সরকারের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
এটি কেবল রাজনৈতিক প্রভাবে কিছু মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হওয়ার বদলে যদি একটি গবেষণা ও ডেটা-চালিত নীতি নির্ধারণী প্ল্যাটর্মে পরিণত হয়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে ই-কমার্সের অবদান জিডিপির ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ই-ক্যাবের সফলতা এখন নির্ভর করছে মেধাভিত্তিক নেতৃত্বের ওপর, যারা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে ৫ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ এবং নিরাপদ বাজার তৈরি করতে পারবে।
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা কিনলে ডটকম, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ই-ক্যাব