Thursday 05 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সাফা মারওয়া: ঈমানের সাত প্রদক্ষিণ

সানজিদা যুথী সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ মার্চ ২০২৬ ১৭:০৫

মরুপর্বত বেষ্টিত পবিত্র নগরী মক্কা—চারদিকে উঁচু-নিচু পাহাড়, ইতিহাস আর ইমানি স্মৃতিতে ভরা। নগরীর বিখ্যাত জাবালে নূর-এ উঠলে চোখে পড়ে সারি সারি পাহাড়শ্রেণি। পবিত্র কাবা শরিফ-কে ঘিরেও তিন দিকজুড়ে পাহাড়ের উপস্থিতি স্পষ্ট। কাবার পূর্বদিকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা দুটি পাহাড়— সাফা পাহাড় ও মারওয়া পাহাড়— ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত হাজেরা (আ.) তার শিশু পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-কে নিয়ে যখন জনমানবশূন্য উপত্যকায় অবস্থান করছিলেন, তখন তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। সন্তানের তৃষ্ণা নিবারণের আশায় তিনি সাফা থেকে মারওয়া, আবার মারওয়া থেকে সাফায় ছুটে যান। এভাবে সাতবার দৌড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশা করেন। তার এই আত্মনিবেদন, ধৈর্য ও তাওয়াক্কুল মুসলিম উম্মাহর জন্য অনন্য শিক্ষায় পরিণত হয়েছে। হজ ও ওমরার অন্যতম বিধান ‘সাঈ’— এই দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী পথ অতিক্রম— সেই ঘটনারই স্মারক।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী পথ আধুনিকভাবে নির্মিত ও সম্প্রসারিত। ভিড় সামলাতে একাধিক তলা করা হয়েছে, যাতে হাজিরা স্বাচ্ছন্দ্যে সাঈ আদায় করতে পারেন। মূল পাহাড়দ্বয়ের অংশবিশেষ সংরক্ষিত আছে; বিশেষ করে সাফার অংশ কাচের আবরণে রক্ষিত। একসময় উভয় পাহাড়ের চূড়া থেকে কাবা শরিফ দেখা যেত— যা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

কোরআনে সাফা-মারওয়াকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে যে হজের বিধান শেখানো হয়েছিল, তার মধ্যেও সাঈ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে সাফা-মারওয়া শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি নয়; বরং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা, প্রার্থনা ও ধৈর্যের জীবন্ত প্রতীক।

ধর্মীয় আলেমরা বলেন, সাঈ আদায়ের সময় বিনয় ও আবেগ নিয়ে দোয়া করা উচিত। নিজের অভাব-অনটন, কষ্ট ও অসহায়তার কথা আল্লাহর কাছে পেশ করা—এটাই এই আমলের মর্ম। যেমনভাবে আল্লাহ হাজেরা (আ.)-কে বিপদমুক্ত করেছিলেন এবং শূন্য মরুভূমিকে মানববসতির উপযোগী করেছিলেন, তেমনি তিনি আজও বান্দার ডাকে সাড়া দেন। সাফা-মারওয়ার শিক্ষা তাই কেবল ইতিহাসচর্চা নয়; বরং জীবনের প্রতিটি সংকটে অটল বিশ্বাস রাখার আহ্বান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সানজিদা যুথী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর