Sunday 08 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নতুন প্রজন্মের নারীরা কী ভাবছে?

তাহমিনা ইসলাম
৮ মার্চ ২০২৬ ১১:১৭

প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে নতুন প্রজন্মের নারীদের চিন্তাভাবনা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তারা এখন শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবছে না। বরং সমাজে সমতা, অধিকার, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়েও স্পষ্ট মতামত দিচ্ছে। নারী দিবস ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও বিভিন্ন তরুণীদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়। নতুন প্রজন্মের নারীরা নিজেদের জীবন, সমাজ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন।

বিশ্বব্যাপী তরুণীদের মধ্যে একটি বড় অংশ মনে করে নারী পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, তরুণীদের একটি বড় অংশ মনে করে আজকের সমাজে নারী হওয়া এখনো অনেক ক্ষেত্রে কঠিন। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্র, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশেও একই চিত্র দেখা যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের বড় একটি অংশ নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অধিকারকে সমর্থন করলেও সমাজে এখনো কিছু বৈষম্যমূলক মানসিকতা রয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে, একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে অধিকাংশ তরুণ নারী ও পুরুষ নারীর অধিকারকে সমর্থন করলেও কিছু ক্ষেত্রে এখনো নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে দ্বিধা বা রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়।

শিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে বদলে যাওয়া ভাবনা

নতুন প্রজন্মের নারীরা এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় শিক্ষা ও ক্যারিয়ারকে বড় গুরুত্ব দিচ্ছেন। অনেক তরুণী মনে করেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া নারীর ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান পথ।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, আগে অনেক পরিবারে মেয়েদের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিয়ে। এখন আমাদের প্রজন্ম ভিন্নভাবে ভাবছে। আমরা চাই আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে, তারপর জীবনের অন্য সিদ্ধান্ত নিতে।

তরুণীদের এই মনোভাব সমাজের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কারণ শিক্ষিত ও কর্মক্ষম নারীর সংখ্যা বাড়লে পরিবার ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

অধিকার ও সমতা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান

নতুন প্রজন্মের নারীরা এখন শুধু নিজের অধিকার নয় বরং সামগ্রিকভাবে নারী পুরুষ সমতা নিয়েও কথা বলছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোরী ও তরুণীদের বড় একটি অংশ মনে করে নারী পুরুষ সমান মর্যাদা পাওয়াটা সমাজের জন্য অপরিহার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, নারী দিবস শুধু উদযাপনের দিন নয়। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সমতা এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। আমরা চাই কর্মক্ষেত্র, রাজনীতি ও সমাজের সব জায়গায় নারীরা সমান সুযোগ পাক।

ডিজিটাল যুগে নতুন সুযোগ ও নতুন চ্যালেঞ্জ

ডিজিটাল প্রযুক্তি তরুণীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তারা সহজেই মতামত প্রকাশ করতে পারছেন। বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন এবং নিজেদের গল্প তুলে ধরছেন।

তবে এই ডিজিটাল জগতেও নারীরা অনেক সময় হয়রানি ও নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হন। গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইনে হয়রানির আশঙ্কায় অনেক নারী তাদের মতামত প্রকাশে অস্বস্তি বোধ করেন।

এর পরও নতুন প্রজন্মের নারীরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

সমাজ বদলের আশাবাদ

বিশ্বের বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, তরুণীদের বড় অংশ বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যতে নারীদের জীবন তাদের মায়েদের প্রজন্মের তুলনায় আরও ভালো হবে।

এই আশাবাদই নতুন প্রজন্মের নারীদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা মনে করেন শিক্ষা, সচেতনতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

পরিবর্তনের পথে নতুন প্রজন্ম

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মের নারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, সচেতন ও প্রযুক্তিনির্ভর। তারা নিজের অধিকার সম্পর্কে জানে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেও দ্বিধা করে না।

ফলে বলা যায়, নতুন প্রজন্মের নারীরা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছে না। বরং সমতা, ন্যায় এবং সম্মানের ভিত্তিতে একটি নতুন সমাজ গঠনের পথও তৈরি করছে।

নারী দিবসের এই সময়ে তাই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নতুন প্রজন্মের নারীরা কী ভাবছে?

উত্তরটি স্পষ্ট তারা সমান সুযোগ, নিরাপদ সমাজ এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা চায়। আর সেই স্বপ্ন নিয়েই তারা এগিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতের পথে।

লেখক: স্টাফ করেসপন্ডেট, সারাবাংলা ডটনেট

সারাবাংলা/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো