আজ ৮ মার্চ— আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতার দাবিকে সামনে রেখে দিনটি পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে নারীরা এই দিনে বেগুনি রঙের শাড়ি বা পোশাক পরে দিবসটি উদযাপন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চোখে পড়ে বেগুনি রঙের ব্যাপক উপস্থিতি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো— আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতীক হিসেবে কেন বেছে নেওয়া হয়েছে বেগুনি রং?
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তথ্য অনুযায়ী, এই দিবসের তিনটি মূল রং রয়েছে—বেগুনি, সবুজ ও সাদা। এর মধ্যে বেগুনি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। কারণ এই রংটি নারীর মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং সমতার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
ইতিহাস বলছে, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নারীদের অধিকার আন্দোলনের সময় থেকেই এই রঙগুলোর ব্যবহার শুরু হয়। বিশেষ করে ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সময় নারীরা বিভিন্ন প্রতীকী রঙ ব্যবহার করেন। পরে ব্রিটেনে নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনেও একই রঙের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ব্রিটেনের নারী অধিকার সংগঠন Women’s Social and Political Union (WSPU) তাদের আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বেগুনি, সাদা ও সবুজ এই তিনটি রং ব্যবহার করত। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাদা ছিল শুদ্ধতা ও সততার প্রতীক, সবুজ ছিল আশা ও নতুন সম্ভাবনার প্রতীক। আর বেগুনি ছিল মর্যাদা, সম্মান এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীমুক্তি আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে বেগুনি রং। কারণ এই রং বোঝায় শক্তি, আত্মমর্যাদা এবং অধিকার আদায়ের দৃঢ় সংকল্প।
আন্তর্জাতিক রঙ নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান প্যান্টনও বেগুনি রংকে নারীর শক্তি ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এই রং লিঙ্গ সমতা, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা এবং পরিবর্তনের শক্তিকে তুলে ধরে।
আরও একটি প্রতীকী ব্যাখ্যা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, বেগুনি রং গ্রিক পুরাণের প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী ভেনাসের সঙ্গে সম্পর্কিত, যিনি নারীত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
তাই নারী দিবসে বেগুনি রং শুধু একটি রং নয়। এটি নারীর দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিবাদ এবং অধিকার আদায়ের ইতিহাসের প্রতীক। আজ যখন কোনো নারী বেগুনি পোশাক পরেন, সেটি শুধু সাজ নয়— এটি একটি বার্তা, একটি অবস্থান।