Sunday 15 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বুধের হৃদয়ে হীরার খনি: মহাকাশ বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৫ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৬

সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট এবং সূর্যের নিকটতম প্রতিবেশী গ্রহ বুধ বরাবরই বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্যের আধার। ধূসর-কালো রঙের এই রুক্ষ গ্রহটি নিয়ে মানুষের কৌতূহল দীর্ঘদিনের। তবে সম্প্রতি নাসার ‘মেসেঞ্জার’ মহাকাশযান থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তা মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন মোড় ঘটিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, বুধের উপরিভাগের কয়েকশ কিলোমিটার গভীরে লুকিয়ে আছে ১৬ কিলোমিটার পুরু এক বিশাল হীরার স্তর।

মহাকাশযানের চোখে নতুন বুধ

২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বুধের কক্ষপথে বিচরণ করা নাসার মেসেঞ্জার মহাকাশযানটি গ্রহটির গঠন নিয়ে অজস্র তথ্য পাঠিয়েছে। পূর্বে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, বুধের উপরিভাগের কালো রঙের কারণ হলো এর পৃষ্ঠে থাকা গ্রাফাইট বা কার্বনের আস্তরণ। মনে করা হতো, এক সময়কার তপ্ত কার্বনসমৃদ্ধ ম্যাগমার মহাসাগর শীতল হয়ে এই গ্রাফাইট তৈরি করেছিল। কিন্তু আধুনিক ডেটা মডেলিং এবং উচ্চচাপীয় পরীক্ষাগারে গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন ভিন্ন কথা। গ্রাফাইট নয়, বরং কার্বনের আরও ঘন এবং মূল্যবান রূপ ‘হীরা’ দিয়েই গঠিত বুধের অভ্যন্তরীণ এক বিশেষ স্তর।

বিজ্ঞাপন

আগ্নেয়গিরির নীরবতা ও হীরার ভূমিকা

বুধ গ্রহের আগ্নেয়গিরিগুলো কেন প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগেই হঠাৎ শান্ত হয়ে গিয়েছিল, তা ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় প্রশ্ন। নতুন এই গবেষণায় তার একটি যৌক্তিক উত্তর পাওয়া গেছে। হীরার একটি বিশেষ গুণ হলো এটি অত্যন্ত দ্রুত তাপ পরিবহন ও শোষণ করতে পারে। গবেষকদের মতে, গ্রহটির ম্যান্টেল ও কোরের মধ্যবর্তী স্থানে হীরার এই পুরু স্তরটি তৈরি হওয়ার ফলে তা অভ্যন্তরীণ তাপ দ্রুত শুষে নিয়ে ম্যান্টেলকে শীতল করে দেয়। এই তাপীয় পরিবর্তনের কারণেই বুধের আগ্নেয়গিরিগুলো সময়ের আগেই তাদের সক্রিয়তা হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

কৃত্রিম পরিবেশে বুধের পুনর্জন্ম

হীরার অস্তিত্বের এই সম্ভাবনা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতেই বুধের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। নাসার পরীক্ষাগারে সিলিকা এবং কার্বনের ওপর প্রায় সাত গিগাপাস্কাল চাপ প্রয়োগ করা হয়, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীয় চাপের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি। এই চরম প্রতিকূল পরিবেশে কার্বন যেভাবে স্ফটিকে রূপান্তরিত হয়েছে, তা থেকেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বুধের কেন্দ্রে এবং ম্যান্টেলের সংযোগস্থলে হীরা তৈরি হওয়া কেবল সম্ভবই নয়, বরং অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য ও বেপিকলম্বো মিশন

বুধের এই অমূল্য সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলেও এখনই তা মানুষের হাতের নাগালে আসা সম্ভব নয়। পৃষ্ঠদেশ থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার গভীরে থাকা এই হীরার খনি খনন করার মতো প্রযুক্তি বর্তমানে পৃথিবীতে নেই। তবে বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য এখন খনিজ আহরণ নয়, বরং সৌরজগতের বিবর্তন বোঝা। ২০২৬ সালে পরিকল্পিত ‘বেপিকলম্বো’ মিশন থেকে আরও সূক্ষ্ম তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন গবেষকরা। এই মিশনটি সফল হলে বুধের অভ্যন্তরীণ গঠন, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং হীরার স্তরের প্রভাব সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে, যা মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর