আধুনিক জীবনযাত্রায় অনলাইন শপিং এখন কেবল বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে যানজট আর ভিড় এড়াতে ঘরে বসেই কেনাকাটার প্রতি ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ। তবে সুবিধার এই আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধী চক্র। প্রযুক্তির মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে মুহূর্তের মধ্যে স্মার্টফোন হ্যাক করা থেকে শুরু করে ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য করে দিচ্ছে এই প্রতারক গোষ্ঠী। সম্প্রতি এমন অনেক অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
এড়িয়ে চলুন সন্দেহজনক লিংক
প্রতারক চক্রের প্রধান অস্ত্র হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া চটকদার ও অবিশ্বাস্য সব বিজ্ঞাপনী লিংক। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করার সময় অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর পছন্দসই পোশাক বা দামী ডিভাইসের অফার সামনে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অপরিচিত লিংকে ক্লিক করার মাত্রই ফোনে অদৃশ্যভাবে প্রবেশ করতে পারে ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার। একবার ফোনে এই ভাইরাস ঢুকে পড়লে আপনার ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড, ওটিপি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য সরাসরি চলে যায় হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে। তাই কোনো লোভনীয় অফার সামনে এলে লিংকে ক্লিক না করে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা ভেরিফাইড অ্যাপে গিয়ে তথ্য যাচাই করা এখন সময়ের দাবি।
বেছে নিন বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম
কেনাকাটার জন্য সবসময় সুপরিচিত এবং ভেরিফাইড ই-কমার্স সাইট বা ফেসবুক পেজ বেছে নেওয়া নিরাপদ। কোনো অপরিচিত পেজ থেকে অর্ডার করার আগে তাদের অফিশিয়াল ঠিকানা এবং কাস্টমার কেয়ার নম্বর আছে কি না তা পরখ করে নিতে হবে। এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে অবশ্যই ‘https://’ বা সিকিউর প্রোটোকল আছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করা উচিত।
‘অস্বাভাবিক মূল্যছাড়’ থেকে সাবধান
ডিজিটাল প্রতারণার আরেকটি বড় হাতিয়ার হলো ‘অস্বাভাবিক মূল্যছাড়’। নামী ব্র্যান্ডের দামী স্মার্টফোন কিংবা ইলেকট্রনিক্স আইটেম যখন কেউ বাজারে প্রচলিত মূল্যের চেয়ে ৮০ বা ৯০ শতাংশ কম দামে অফার করে, তখন নিশ্চিতভাবেই সেখানে প্রতারণার ফাঁদ থাকে। সুস্থ মস্তিষ্কে বাজারের প্রকৃত মূল্যের সাথে অফার মূল্যের আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কারণ বিচার করা প্রয়োজন। লোভের বশবর্তী হয়ে এসব ফাঁদে পা দিলেই পড়তে হয় আর্থিক সংকটে।
সর্বোপরি, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আগের ক্রেতাদের রিভিউ এবং মন্তব্য যাচাই করা একটি অপরিহার্য কাজ। কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের কমেন্ট সেকশন সাধারণত উন্মুক্ত থাকে। যদি কোনো পেজে কমেন্ট করার সুযোগ না থাকে কিংবা নেতিবাচক মন্তব্যের আধিক্য দেখা যায়, তবে সেখান থেকে কেনাকাটা করা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়াও ছবির সাথে বাস্তব পণ্যের মিল না পাওয়ার বিড়ম্বনা এড়াতে অর্ডারের আগে প্রতিষ্ঠানের ‘রিটার্ন ও রিফান্ড পলিসি’ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেওয়া উচিত। উৎসবের কেনাকাটায় আপনার সামান্যতম সতর্কতা ও সচেতনতা কেবল আপনার অর্থ নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও প্রদান করবে।