সেন্ট প্যাট্রিক’স ডে-র ইতিহাস প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো। আয়ারল্যান্ডের প্রধান ধর্মপ্রচারক সেন্ট প্যাট্রিকের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে ১৭ই মার্চ এই উৎসব পালিত হয়। মজার ব্যাপার হলো, প্যাট্রিক নিজে আইরিশ ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন রোমান-ব্রিটিশ নাগরিক যাকে জলদস্যুরা অপহরণ করে আয়ারল্যান্ডে নিয়ে এসেছিল। পরবর্তীতে তিনি সেখানে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেন এবং আইরিশদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন।
শ্যামরক ও পবিত্র ত্রিত্ববাদ
এই উৎসবের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতীক হলো তিন পাতার ঘাস বা ‘শ্যামরক’। জনশ্রুতি আছে, সেন্ট প্যাট্রিক এই শ্যামরক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে খ্রিস্টধর্মের জটিল ‘পবিত্র ত্রিত্ববাদ’ (পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা) বুঝিয়েছিলেন। আজ এই ক্ষুদ্র ঘাসটি আয়ারল্যান্ডের জাতীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে এবং উৎসবের দিনে মানুষ অত্যন্ত গর্বের সাথে এটি পোশাকে ধারণ করে।
নীল থেকে সবুজে রূপান্তর
জানলে অবাক হতে হয় যে, শুরুতে সেন্ট প্যাট্রিকের সাথে যুক্ত রঙটি ছিল নীল। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের নয়নাভিরাম সবুজ প্রকৃতি এবং ১৮শ শতাব্দীর আইরিশ স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রভাবে সবুজ রঙটি এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। বর্তমানে এই দিনটিতে শিকাগো নদীর জল পর্যন্ত সবুজ রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়, যা এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে।
উৎসবের বৈশ্বিক বিস্তার ও আধুনিক উদযাপন
বর্তমানে এটি কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং আইরিশ সংস্কৃতির এক বিশাল প্রদর্শনী। ১৯০৩ সালে আয়ারল্যান্ডে এই দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলেও প্রথম সেন্ট প্যাট্রিক’স ডে প্যারেড কিন্তু আয়ারল্যান্ডে নয়, বরং আমেরিকার ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আজ নিউ ইয়র্ক থেকে টোকিও। সবখানেই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী আইরিশ গান এবং নাচের মাধ্যমে বিশ্ববাসী একাত্ম হয়ে এই দিনটি উদযাপন করে।