মরণব্যাধি ক্যানসার শনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এখন আর কেবল কল্পনা নয়, বরং বাস্তব চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। ফুসফুস ক্যানসার দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে যুক্তরাজ্যে উদ্ভাবিত একটি বিশেষ এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (TGA)। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে একে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
অপটেলাম-এর ‘ভার্চুয়াল নডিউল ক্লিনিক’
যুক্তরাজ্যের কোম্পানি অপটেলাম-এর তৈরি এই এআই প্ল্যাটফর্মটির নাম ‘ভার্চুয়াল নডিউল ক্লিনিক’। এটি মূলত ফুসফুসে থাকা অত্যন্ত সূক্ষ্ম নডিউল বা ছোট গাঁটগুলো নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ধারণ করতে পারে। শুধু শনাক্তকরণই নয়, এটি রোগীর চিকিৎসার অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকির পূর্বাভাস দিতেও সক্ষম। উল্লেখ্য, এই প্রযুক্তিটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র (FDA), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যে ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে।
স্মার্ট হেলথ ম্যানেজমেন্ট: মেডটেক এআই
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেডটেক গ্লোবাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ করতে নিয়ে এসেছে ‘মেডটেক এআই’। এই প্ল্যাটফর্মটি চিকিৎসকের পরামর্শের নোট, রেফারেল চিঠি এবং প্রয়োজনীয় নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করতে পারে। এর বিশেষত্ব হলো, এটি মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যে একজন জটিল রোগীর দীর্ঘ চিকিৎসা ইতিহাস সংক্ষিপ্ত আকারে ড্যাশবোর্ডে উপস্থাপন করতে পারে, যা চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সাশ্রয় করবে।
স্তন্য ক্যানসার শনাক্তে নতুন দিগন্ত
ক্যানসার চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখানেই সীমাবদ্ধ নেই। পার্থভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অনকোরেস মেডিক্যাল স্তন ক্যানসার শনাক্তে ‘এলোরা কোয়ান্টিটেটিভ মাইক্রো-ইলাস্টোগ্রাফি ইমেজিং সিস্টেম’ নিয়ে কাজ করছে। এই প্রযুক্তিটি অস্ত্রোপচারের সময় টিস্যুর দৃঢ়তা পর্যবেক্ষণ করে শরীরে রয়ে যাওয়া টিউমার খুঁজে বের করতে সার্জনদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দেবে। প্রকল্পটির উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে ২৭ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে এবং শীঘ্রই ১১০ জন রোগীর ওপর এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসেবায় এআই-এর এই জয়যাত্রা বিশ্বজুড়ে রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বাড়াবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করে তুলবে। এর ফলে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়বে, যা মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে।