ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট নজরদারি বা মডারেশন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে সন্ত্রাসবাদ, শিশু নির্যাতন কিংবা প্রতারণামূলক কনটেন্ট শনাক্তে মানুষের চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে বেশি প্রধান্য দেওয়া হবে। সেসঙ্গে তৃতীয় পক্ষের (থার্ড-পার্টি) ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পথে হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে উন্নত এআই সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিদ্যমান পদ্ধতির চেয়ে এআই অনেক বেশি কার্যকর ও নির্ভুল ফলাফল দিচ্ছে।
কেন এই পরিবর্তন?
মেটার দাবি, বীভৎস দৃশ্য (গ্রাফিক কনটেন্ট) বা প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া প্রতারণার কৌশলগুলো শনাক্ত করা মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, মানসিকভাবে ক্লান্তিকর এবং পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ। এআই ব্যবহারে এই কাজের নির্ভুলতা বাড়ার পাশাপাশি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
এআই বনাম মানব মডারেশন: কিছু চমকপ্রদ তথ্য
* কার্যকারিতা: মেটার নতুন এআই সিস্টেম মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ যৌন হেনস্তামূলক কনটেন্ট শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
* নির্ভুলতা: ভুল শনাক্তকরণের হার কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
* প্রতারণা রোধ: বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার নতুন ধরনের প্রতারণার চেষ্টা রুখে দিচ্ছে এই প্রযুক্তি। বিশেষ করে সেলিব্রিটিদের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা বা অ্যাকাউন্ট হ্যাকের চেষ্টা এআই এখন অনেক দ্রুত শনাক্ত করছে।
মানুষের ভূমিকা কি শেষ?
না, মেটা স্পষ্ট করেছে যে মানুষের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মূলত এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জটিল বিষয়গুলো তদারকি করবেন। বিশেষ করে অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার মতো সংবেদনশীল ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহণ বজায় থাকবে।
রাজনৈতিক কনটেন্ট ও নতুন ফিচার
গত এক বছরে মেটা তাদের নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থার্ড-পার্টি ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের বদলে ‘কমিউনিটি নোটস’ মডেলের দিকে ঝুঁকছে তারা। এছাড়া রাজনৈতিক কনটেন্ট দেখার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে ২৪ ঘণ্টা সচল একটি ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট’ চালু করছে মেটা। এটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ এবং ডেস্কটপের হেল্প সেন্টারে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে।