দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই উৎসব। তবে একজন মুমিনের কাছে এই আনন্দ কেবল আমোদ-প্রমোদে নয়, বরং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সুন্নাহর অনুসরণে। ঈদের দিনটি অর্থবহ করতে ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু বিশেষ করণীয় ও বর্জনীয় দিক রয়েছে।
ঈদের দিনে যা আপনার ‘করণীয়’ (সুন্নত ও মোস্তাহাব আমল)
ঈদের সকাল থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত রয়েছে, যা পালনে সওয়াব ও বরকত নিহিত:
* পবিত্রতা অর্জন: ঈদের দিন সকালে সুন্নত তরিকায় গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।
* উত্তম পোশাক পরিধান: সাধ্যের মধ্যে নিজের কাছে থাকা সবচেয়ে ভালো ও পরিষ্কার পোশাকটি পরিধান করা। এটি নতুন হওয়া জরুরি নয়, তবে পরিচ্ছন্ন হওয়া আবশ্যক।
* সুগন্ধি ব্যবহার: পুরুষদের জন্য সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা সুন্নাহ।
* মিষ্টিমুখ করে বের হওয়া: ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে বেজোড় সংখ্যক খেজুর বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া সুন্নত।
* সদকায়ে ফিতর আদায়: ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করে দেওয়া ওয়াজিব। এতে করে অভাবী মানুষগুলোও ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে।
* তাকবির পাঠ করা: ঈদগাহে যাওয়ার পথে নিচু স্বরে তাকবির পাঠ করা: ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’।
* পথ পরিবর্তন করা: ঈদগাহে এক পথে যাওয়া এবং অন্য পথে ফিরে আসা সুন্নাহ।
* শুভেচ্ছা বিনিময়: একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে সাহাবায়ে কেরামদের স্টাইলে দোয়া করা— ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ (আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের নেক আমল কবুল করুন)।
ঈদের দিনে যা ‘বর্জনীয়’ (নিষিদ্ধ ও অনুচিত কাজ)
ঈদের আনন্দ যেন গুনাহের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি…
* রোজা রাখা হারাম: ঈদের দিন রোজা রাখা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম।
* বেপর্দা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি: ঈদ উপলক্ষে খোলামেলা বা শরিয়ত বিরোধী পোশাক পরিধান করা এবং বিজাতীয় অপসংস্কৃতি অনুসরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
* অপচয় ও বিলাসিতা: নতুন পোশাক বা খাবারের আয়োজনে সামর্থ্যের বাইরে অপচয় করা ঠিক নয়। মনে রাখতে হবে, অপচয়কারী শয়তানের ভাই।
* আতশবাজি ও উচ্চশব্দ: আতশবাজি ফোটানো বা উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে অন্যের বিরক্তি সৃষ্টি করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী।
* হারাম বিনোদন: মাদক, জুয়া বা লটারি সদৃশ কোনো খেলায় মত্ত হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
* নামাজ কাজা করা: ঈদের আনন্দে মেতে উঠে ফরজ নামাজ (ফজর, জোহর ইত্যাদি) কাজা করা বড় ধরনের গুনাহ।
উল্লেখ্য, ঈদ মানেই ভাগাভাগি। আপনার চারপাশের এতিম, মিসকিন ও অভাবী প্রতিবেশীদের খোঁজ নিন। আপনার সামর্থ্যের সামান্য অংশ তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। পারিবারিক কলহ বা আত্মীয়দের সঙ্গে মনোমালিন্য থাকলে এই দিনেই তা মিটিয়ে ফেলে সম্পর্কের মেলবন্ধন দৃঢ় করুন।