ছবি ও ভিডিও শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক প্রচারণা সবখানেই এর জয়জয়কার। তবে অজান্তেই কিছু ছোট ভুল আপনার শখের অ্যাকাউন্টটিকে চিরতরে বন্ধ (Permanent Ban) করে দিতে পারে। ইনস্টাগ্রামের কঠোর কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন থেকে বাঁচতে যে বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকা জরুরি, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
* ফলোয়ার কেনা বা ফেক এনগেজমেন্ট
দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার নেশায় অনেকেই বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে ‘ফলোয়ার’ কেনেন। মনে রাখবেন, ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম কৃত্রিম অনুসারী বা বট (Bot) খুব সহজেই শনাক্ত করতে পারে। এতে আপনার অ্যাকাউন্টের ‘রিচ’ বা প্রচার কমে যায় (Shadowban) এবং বারবার এমন করলে অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে ডিলিট হয়ে যেতে পারে।
* কপিরাইট আইন লঙ্ঘন
অন্যের তৈরি করা ছবি, ভিডিও বা মিউজিক অনুমতি ছাড়া নিজের প্রোফাইলে আপলোড করা একটি বড় অপরাধ। মূল নির্মাতা যদি ‘কপিরাইট স্ট্রাইক’ দেয়, তবে ইনস্টাগ্রাম দ্রুত সেই পোস্ট সরিয়ে নেয়। একাধিকবার এমন অভিযোগ জমা পড়লে আপনার অ্যাকাউন্টটি আইনি জটিলতায় পড়তে পারে।
* নিষিদ্ধ হ্যাশট্যাগ (#) ব্যবহার
সব হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। কিছু বিতর্কিত বা অনুপযুক্ত শব্দের হ্যাশট্যাগকে ইনস্টাগ্রাম ‘ব্যান’ করে রাখে। এই নিষিদ্ধ হ্যাশট্যাগগুলো ব্যবহার করলে আপনার পোস্ট কারো ফিডেই পৌঁছাবে না। তাই ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের আগে তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
* অশালীন ও বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট
ঘৃণাত্মক বক্তব্য (Hate Speech), অশালীন ছবি কিংবা সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ায় এমন কোনো পোস্টের ব্যাপারে ইনস্টাগ্রাম জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। ব্যবহারকারীদের রিপোর্টের ভিত্তিতে এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
* স্প্যামিং বা অস্বাভাবিক আচরণ
স্বল্প সময়ের মধ্যে শত শত পোস্টে লাইক দেওয়া, একই কমেন্ট বারবার করা কিংবা অপরিচিতদের ইনবক্সে যত্রতত্র লিংক পাঠানোকে ‘স্প্যাম’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য অটো-লাইকার অ্যাপে নিজের পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।