স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ‘ব্যাটারি হেলথ’। ফোন কেনার কয়েক মাস যেতে না যেতেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে ব্যাটারিটি আর কতদিন ভালো সার্ভিস দেবে? কতদিন পর চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে শুরু করবে? এতদিন এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেতে দীর্ঘ গবেষণাগার পরীক্ষার প্রয়োজন হতো, তবে এবার সেই অসাধ্য সাধন করতে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)।
গবেষকরা দাবি করছেন, উন্নত এআই সিস্টেম ব্যবহার করে এখন অত্যন্ত অল্প সময়েই যেকোনো ব্যাটারির ভবিষ্যৎ কর্মক্ষমতা সম্পর্কে নির্ভুল পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব।
দীর্ঘ গবেষণার দিন শেষ
সাধারণত একটি ব্যাটারির আয়ু বুঝতে হলে সেটিকে শত শত বার চার্জ ও ডিসচার্জ (চার্জ শূন্য করা) করে পরীক্ষা করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস বা বছরও লেগে যেতে পারে। কিন্তু নতুন এজেন্টিক এআই (Agentic AI) সিস্টেম মাত্র ৫০টি চার্জিং সাইকেলের তথ্য বিশ্লেষণ করেই বলে দিতে পারছে ব্যাটারিটি কতবার ব্যবহারের পর তার সক্ষমতা হারাবে।
সময় ও শক্তির বিশাল সাশ্রয়
গবেষণায় দেখা গেছে, এই নতুন পদ্ধতিতে ব্যাটারির মান যাচাই করতে আগের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ শক্তি ব্যয় হয়। অর্থাৎ, ৯৫ শতাংশ শক্তি ও সময় সাশ্রয় করেই ব্যাটারির স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে। এর ফলে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো অনেক কম খরচে উন্নত মানের ব্যাটারি বাজারে ছাড়তে পারবে।
শুধু স্মার্টফোন নয়, পরিবর্তন আসবে সবখানে
এই প্রযুক্তির প্রভাব কেবল স্মার্টফোনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গবেষকদের মতে, এটি নিচের ক্ষেত্রগুলোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে:
* ইলেকট্রিক গাড়ি (EV): গাড়ির ব্যাটারি কত বছর টিকবে তা আগেভাগেই জানা যাবে।
* ল্যাপটপ ও স্মার্টওয়াচ: ডিভাইসের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।
* ড্রোন প্রযুক্তি: ড্রোনের ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট আরও নিখুঁত হবে।