আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন একটি শব্দ আছে যা ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করা কঠিন। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত আমরা কয়েক ডজন বার শব্দটি ব্যবহার করি। সেটি হলো ‘OK’ (ওকে)। আজ ২৩ মার্চ, ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি এই ছোট্ট কিন্তু শক্তিশালী শব্দটির জন্মদিন বা ‘ওকে দিবস’ হিসেবে পরিচিত।
ভুল বানান থেকে বিশ্বজয়
১৮৩৭ সালের দিকে আমেরিকায় শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে একটি অদ্ভুত ঝোঁক তৈরি হয়েছিল। তারা মজার ছলে বিভিন্ন শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করত এবং ইচ্ছা করে বানান ভুল করত। অনেকটা আজকের যুগের ‘LOL’ বা ‘OMG’ ব্যবহারের মতো।
১৮৩৯ সালের ২৩ মার্চ, আমেরিকার ‘বোস্টন মর্নিং পোস্ট’ পত্রিকায় প্রথমবার ছাপা হয় ‘o.k.’। মজার ব্যাপার হলো, এটি কোনো সিরিয়াস শব্দ ছিল না। সম্পাদক মশাই ‘All Correct’ বোঝাতে গিয়ে মজা করে লিখেছিলেন ‘Oll Korrect’ আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘OK’।
জানেন কি? এক সময় মানুষ মনে করত এটি কোনো নেটিভ আমেরিকান ভাষা বা গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে। কিন্তু ঐতিহাসিকরা প্রমাণ করেছেন, এটি স্রেফ একটি মশকরা থেকে আসা শব্দ!
চাঁদ থেকে সমুদ্রতল: সর্বত্রই ওকে
‘ওকে’ শুধু মাটিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নীল আর্মস্ট্রং যখন চাঁদে পা রেখেছিলেন, পৃথিবী অভিমুখে তার বলা প্রথম শব্দগুলোর একটি ছিল ‘ওকে’। এটি এমন এক বৈশ্বিক শব্দ যা ভাষা, বর্ণ বা ভৌগোলিক সীমানা মানে না। একজন জাপানি, একজন ব্রাজিলিয়ান বা একজন বাঙালি, সবাই এই দুই অক্ষরের মর্মার্থ বোঝেন।
কেন এটি এত জনপ্রিয়?
এটি বলতে বা লিখতে সবচেয়ে কম সময় লাগে।এটি কোনো তর্কে ইতি টানতে বা সম্মতি জানাতে সবচেয়ে নিরাপদ শব্দ। এর কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকরণ নেই, তাই ভুল হওয়ার ভয়ও নেই!
আজকের দিনে আপনি যা করতে পারেন
আজকের এই দিনে অন্তত একবার ভেবে দেখুন তো, এই ছোট্ট শব্দটি আপনার জীবনকে কতটা সহজ করে দিয়েছে! বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বা মেসেজে আজ বেশি বেশি ‘ওকে’ ব্যবহার করে দিনটি উদযাপন করতে পারেন।