রমজান বিদায় নিয়ে শুরু হয়েছে হিজরি দশম মাস শাওয়াল। পবিত্র রমজানের পুরো মাস সিয়াম সাধনার পর এই শাওয়াল মাসে অতিরিক্ত ছয়টি রোজা রাখার বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। গ্রাম-বাংলায় অনেকেই একে লোকমুখে ‘সাক্ষী রোজা’ বলে অভিহিত করলেও, ইসলামী পরিভাষায় এটি ‘শাওয়ালের ছয় রোজা’ নামেই পরিচিত।
সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব
এই ছয়টি রোজার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো, এর মাধ্যমে পুরো বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত হাদীসটি হলো:
হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা পালন করলো, তারপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রেখে তার অনুগামী হলো, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখলো।” (সহিহ মুসলিম: ২৬২৯, সুনানে তিরমিজি: ৭৫৯)
রোজাগুলো কবে ও কীভাবে রাখবেন?
শাওয়ালের এই রোজাগুলো নিয়ে অনেকের মনেই কিছু সাধারণ প্রশ্ন বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকে। এ বিষয়ে আলেমদের স্পষ্ট মতামত নিচে তুলে ধরা হলো:
ঈদের পরের দিন থেকেই কি রাখতে হবে?
না, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ঈদের দিন (১ শাওয়াল) রোজা রাখা হারাম। তাই ঈদের দিন পার হওয়ার পর, শাওয়াল মাসের যেকোনো দিন থেকে এই রোজা শুরু করা যাবে।
রোজাগুলো কি টানা রাখতে হবে?
একটানা বা বিরতি দিয়ে, উভয়ভাবেই এই রোজা রাখা যায়। সুবিধাজনক সময়ে ভেঙে ভেঙে রাখলেও সওয়াব পাওয়া যাবে।
একমাত্র শর্ত: রোজাগুলো অবশ্যই শাওয়াল মাসের ২৯ বা ৩০ দিনের ভেতরেই শেষ করতে হবে।