Tuesday 24 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কাজা রোজা নাকি শাওয়ালের ৬ রোজা: কোনটি আগে রাখবেন?

সারাবাংলা ডেস্ক
২৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:৫৬

রমজান বিদায় নিয়েছে মাত্র কয়েকদিন হলো। ঈদের খুশির রেশ কাটতে না কাটতেই ইবাদতপ্রিয় মুসলমানরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন শাওয়াল মাসের বিশেষ ৬টি নফল রোজার। তবে অনেক মুসলিম, বিশেষ করে নারীরা একটি সাধারণ সংশয়ে ভোগেন, আগে কি রমজানের ছুটে যাওয়া কাজা রোজা আদায় করবেন, নাকি শাওয়ালের ৬ রোজা রাখবেন? বিষয়টি নিয়ে ইসলামি আইনজ্ঞ ও স্কলারদের স্পষ্ট এবং যুক্তিযুক্ত মতামত রয়েছে।

শাওয়ালের ৬ রোজার ফজিলত

হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম)

বিজ্ঞাপন

ইসলামি হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব কমপক্ষে ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়। সেই হিসেবে রমজানের ৩০ রোজার সওয়াব ৩০০ দিন এবং শাওয়ালের ৬ রোজার সওয়াব ৬০ দিনের সমান। অর্থাৎ ৩৬০ দিন বা পুরো এক বছর রোজা রাখার সওয়াব মেলে এই আমলের মাধ্যমে।

কোনটি আগে রাখবেন? শরিয়তের বিধান

এই বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম ও ফকিহদের প্রধান দুটি মতামত রয়েছে:

কাজা রোজা আগে রাখা উত্তম (অধিকাংশ আলেমের মত)

ইসলামি শরিয়তের মূল নীতি হলো— নফলের চেয়ে ফরজের গুরুত্ব সবসময় বেশি। রমজানের রোজা ফরজ, আর শাওয়ালের রোজা নফল। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো আগে ফরজের ঋণ শোধ করা। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল…’, এর অর্থ হলো পুরো রমজানের রোজা সম্পন্ন করা। কাজা বাকি থাকলে তো রমজানের রোজা পূর্ণ হলো না। তাই অনেক আলেমের মতে, আগে কাজা আদায় করে তারপর শাওয়ালের নফল রোজা রাখা উচিত।

শাওয়ালের রোজা আগে রাখাও জায়েজ

অন্য একদল আলেমের মতে, রমজানের কাজা রোজা আদায়ের জন্য পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত পুরো একটি বছর সময় পাওয়া যায়। কিন্তু শাওয়ালের রোজা রাখার সময় মাত্র এক মাস (শাওয়াল মাস)। তাই কেউ যদি আগে শাওয়ালের ৬ রোজা রেখে ফেলে এবং পরে বছরের অন্য সময়ে কাজা আদায় করে, তবে তার আমল আদায় হয়ে যাবে এবং সে সওয়াব পাবে। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) পরবর্তী শাবান মাসে (রমজানের ঠিক আগে) নিজের কাজা রোজা আদায় করতেন বলে সহিহ হাদিসে প্রমাণ আছে।

সহজ সমাধান ও পরামর্শ

সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আলেমগণ খুব চমৎকার একটি সমন্বয় বা সমাধান দিয়েছেন…

যাদের কাজা রোজার সংখ্যা কম: যাদের মাত্র ২-৩টি রোজা ভাঙতি হয়েছে, তারা শাওয়াল মাসের শুরুতেই দ্রুত কাজা রোজাগুলো রেখে ফেলুন। এরপর শাওয়ালের ৬ রোজা রাখুন। এতে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটে না এবং মনও খটকামুক্ত থাকে।

যাদের কাজা রোজার সংখ্যা বেশি (যেমন নারীদের ক্ষেত্রে): যদি কাজা রোজার সংখ্যা বেশি হয় এবং আগে কাজা রাখতে গেলে শাওয়াল মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তারা আগে শাওয়ালের নফল রোজাগুলো রেখে নিতে পারেন। পরবর্তীতে সারা বছরের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে ধীরে ধীরে কাজা রোজা শোধ করে দিলেই চলবে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

মনে রাখবেন, এক রোজায় দুই নিয়ত করা যাবে না। অর্থাৎ ‘আমি এই একটি রোজায় কাজা এবং শাওয়ালের নফল দুই সওয়াবই পাবো’, এমন নিয়ত করলে রোজা শুদ্ধ হবে না। ফরজের জন্য একক ও নির্দিষ্ট নিয়ত জরুরি।

পবিত্র শাওয়াল মাসজুড়েই এই রোজাগুলো রাখা যায়। একনাগাড়ে টানা ৬ দিন রাখা যেমন জায়েজ, তেমনি বিরতি দিয়ে দিয়ে পুরো মাসে ৬টি রোজা পূর্ণ করলেও সওয়াব পাওয়া যাবে। নিয়ত ও সময়ের সঠিক সমন্বয়ই আমাদের ইবাদতকে সুন্দর করতে পারে।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর