Wednesday 25 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জীবনের খাতা থেকে গুনাহ মুছে ফেলার বিশেষ আমল

সারাবাংলা ডেস্ক
২৫ মার্চ ২০২৬ ১৭:২৮

নশ্বর এই পৃথিবীর জীবন মানুষের জন্য এক মহা পরীক্ষা। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতিটি কর্মের হিসাব দিতে হবে কিয়ামতের দিন। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জান্নাত লাভ করবেন, কুরআনের ভাষায় তারাই প্রকৃত সফল।

পবিত্র কুরআনের সুরা আল-ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেকটি প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দেয়া হবে। যাকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনা ও ধোঁকার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।’

দুনিয়ার এই সংক্ষিপ্ত সফরে কীভাবে রবের সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় এবং আখেরাতের পাল্লা ভারী করা যায়, তার চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। সহিহ মুসলিম শরিফের একটি বিখ্যাত হাদিসে তিনি এমন ৩টি আমলের কথা উল্লেখ করেছেন, যা বান্দার কৃত গুনাহগুলোকে ধুয়ে-মুছে দেয় এবং আল্লাহর দরবারে তার সম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

সেই বিখ্যাত হাদিসটি কী?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন কিছু কাজের কথা জানাব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন?’ সাহাবায়ে কেরাম সানন্দে উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! অবশ্যই বলুন।’ তখন নবীজি (সা.) নিচে উল্লেখিত ৩টি কাজের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন:

মর্যাদা বাড়ানোর ৩টি সোনালী আমল

কষ্ট সত্ত্বেও নিখুঁতভাবে অজু করা: প্রচণ্ড শীত বা শারীরিক অসুস্থতার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অলসতা না করে নিয়ম মেনে ধীরস্থিরভাবে অজু করা। অজু কেবল নামাজের প্রস্তুতি নয়, এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পাপ মোচনেরও মাধ্যম।

মসজিদের দিকে বেশি বেশি পা বাড়ানো: বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে আল্লাহর ঘরের দিকে যাওয়া। প্রতিটি কদমে কদমে বান্দার সওয়াব লেখা হয় এবং গুনাহ মাফ হয়। যার বাসা মসজিদ থেকে যত দূরে, নিয়ত খাঁটি হলে তার সওয়াবও তত বেশি।

এক নামাজের পর অন্য নামাজের অপেক্ষা: এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে পরবর্তী ওয়াক্তের জন্য অন্তরে ব্যাকুলতা রাখা। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও মনটা যেন জায়নামাজে পড়ে থাকে।

হাদিসের শেষাংশে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই আমলগুলোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘জেনে রেখো, এটাই হলো রিবাত (অর্থাৎ দ্বীনের পাহারাদারি করা ও শয়তানের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রস্তুত রাখা)।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৪৮০)

আমাদের করণীয়

প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে আমাদের চারপাশ নানা পাপে কলুষিত। শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে এবং নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে এই ৩টি আমল হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সামান্য একটু সদিচ্ছা আর অভ্যাসের পরিবর্তনই পারে আমাদের পরকালীন জীবনকে জান্নাতের আলোয় আলোকিত করতে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমলগুলো নিয়মিত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর