ক্যাশলেস লেনদেনের এই যুগে পকেটে মানিব্যাগ না থাকলেও চলে, শুধু স্মার্টফোন থাকলেই কেল্লাফতে! রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে মুদি দোকান-সবখানেই ঝুলছে চারকোণা কিউআর (QR) কোড। জাস্ট স্ক্যান আর পেমেন্ট! কিন্তু এই সহজ প্রযুক্তির আড়ালেই ওত পেতে আছে সাইবার অপরাধীরা। একটু অসাবধান হলেই মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যেতে পারে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।
আসুন জেনে নেই আসল এবং নকল কিউআর কোড চেনার কিছু উপায়…
ফিজিক্যাল টেম্পারিং বা ‘স্টিকার’ চেক করুন
প্রতারকদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো আসল কিউআর কোডের ওপর নিজেদের তৈরি ভুয়া কিউআর কোডের স্টিকার বসিয়ে দেওয়া। কোনো দোকানে স্ক্যান করার আগে কোডটির ওপর হাত দিয়ে ঘষে দেখুন সেটি কোনো আলগা স্টিকার কি না। প্রিন্ট করা কাগজের ওপর আলগা স্টিকার দেখলেই স্ক্যান করা থেকে বিরত থাকুন।
ডিসপ্লে নাম ও মার্চেন্ট আইডি মেলান
কোড স্ক্যান করার পর পিন (PIN) দেওয়ার আগে মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নামটি ভালো করে পড়ুন। আপনি যে দোকানে দাঁড়িয়ে আছেন, স্ক্রিনে সেই দোকানের নাম দেখাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত হোন। তাড়াহুড়ো করে নাম না দেখে টাকা পাঠালে তা ভুল অ্যাকাউন্টে চলে যেতে পারে।
শুধু অফিশিয়াল পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করুন
যেকোনো লিংকে ক্লিক করা বা স্ক্যান করার জন্য থার্ড-পার্টি বা অচেনা ক্যামেরা অ্যাপ ব্যবহার করবেন না। বিকাশ, নগদ কিংবা আপনার ব্যাংকের অফিশিয়াল অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে ক্ষতিকর লিংকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি প্রায় থাকে না বললেই চলে।
‘টাকা রিসিভ’ করার ফাঁদ বুঝুন
সবচেয়ে বড় সাইবার ট্রিক হলো, “এই কিউআর কোডটি স্ক্যান করুন, আপনার অ্যাকাউন্টে লটারির টাকা চলে যাবে!” মাথায় রাখবেন, কিউআর কোড স্ক্যান করলে সবসময় আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়, টাকা আসে না। কেউ আপনাকে টাকা দেওয়ার নাম করে স্ক্যান করতে বললে বুঝবেন সেটি শতভাগ জালিয়াতি।
সন্দেহ হলে যা করবেন
যদি কোনো কিউআর কোড স্ক্যান করার পর আপনার সন্দেহ হয়, তবে অবিলম্বে লেনদেন বাতিল করুন। আপনার পেমেন্ট অ্যাপের হেল্পলাইনে জানান এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টের ওপর নজর রাখুন। সচেতনতাই ডিজিটাল দুনিয়ায় আপনার সবচেয়ে বড় বর্ম।
উল্লেখ্য, ডিজিটাল পেমেন্ট মানেই অন্ধবিশ্বাস নয়। যেকোনো আর্থিক লেনদেনের সময় স্ক্রিনের দিকে ২ সেকেন্ড বেশি তাকিয়ে তথ্যগুলো মিলিয়ে নেওয়া আপনাকে বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে। সন্দেহ হলেই সরাসরি ক্যাশ বা বিকল্প মাধ্যমে পেমেন্ট করুন।