জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কীভাবে শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়, ইসলাম আমাদের তা শিখিয়েছে। এমনকি জুতা ব্যবহার করার মতো ছোট বিষয়েও রয়েছে চমৎকার সব দিকনির্দেশনা।
ডানে শুরু ও বামে শেষ
জুতা ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুন্নাহ হলো এর ক্রম বজায় রাখা। সবসময় ডান পা দিয়ে জুতা পরা শুরু করা এবং খোলার সময় বাম পা আগে বের করা উচিত।
হাদিসের শিক্ষা: রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, যখন তোমরা জুতা পরবে তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে এবং যখন খুলবে তখন বাম দিক থেকে শুরু করবে। উদ্দেশ্য হলো, ডান পা যেন শুরুতে জুতা পায় এবং খোলার সময় সবার শেষে খালি হয়। (সহিহ বুখারি: ৫৮৫৫)
বসে জুতা পরিধান করা
সুবিধাজনক অবস্থানে বসে জুতা পরা একটি চমৎকার আদব। বিশেষ করে যেসব জুতার ফিতা বাঁধতে হয় বা হাত দিয়ে টেনে পরতে হয়, সেগুলো বসে পরা নিরাপদ।
হাদিসের শিক্ষা: রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে জুতা পরতে নিরুৎসাহিত করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৪১৩৫)
বাস্তবসম্মত দিক: বসে জুতা পরলে শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে না। তবে সাধারণ চটি বা স্লিপার দাঁড়িয়ে পরলে কোনো ক্ষতি নেই।
এক পায়ে জুতা পরে না হাঁটা
যেকোনো কাজের বেমানান রূপ ইসলামে অপছন্দনীয়। এক পা খালি রেখে অন্য পায়ে জুতা গলিয়ে হাঁটা দৃষ্টিকটু এবং শারীরিক ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর।
হাদিসের শিক্ষা: আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন একটি জুতা পায়ে দিয়ে না হাঁটে। হয় সে দুটোই পরবে, নতুবা দুটোই খুলে রাখবে। (জামে তিরমিজি: ১৭৭৪)
যদি অসাবধানতাবশত একটি জুতা ছিঁড়ে যায়, তবে সেটি ঠিক করার আগ পর্যন্ত দুটোই খুলে রাখা শ্রেয়।
মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস
সবসময় আরাম-আয়েশে গা ভাসিয়ে না দিয়ে মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটা একটি চমৎকার সুন্নাহ। এটি মানুষের মন থেকে দম্ভ ও অহংকার দূর করে এবং বিনয়ী হতে শেখায়।
হাদিসের শিক্ষা: রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সময়ে সময়ে খালি পায়ে হাঁটার পরামর্শ দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৪১৬০)
আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানও বলে, নিরাপদ ও ঘাসযুক্ত স্থানে খালি পায়ে হাঁটা স্নায়ু ও পায়ের জন্য বেশ উপকারী।
পরার আগে জুতা ভালো করে ঝেড়ে নেওয়া
জুতা পায়ে দেওয়ার ঠিক আগে তা একটু উল্টে বা ঝেড়ে নেওয়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অংশ। একবার আল্লাহর রাসুল (সা.) জুতা পরার পূর্বে তা ঝাড়তেই ভেতর থেকে ক্ষতিকর জীব বেরিয়ে এসেছিল। এই সুন্নতের মাধ্যমে জুতার ভেতর লুকিয়ে থাকা বিষাক্ত পোকামাকড় বা ধুলোবালি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায়।
উল্লেখ্য, নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহগুলো কেবল ধর্মীয় নিয়ম নয়, বরং স্বাস্থ্যসম্মত ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মূল ভিত্তি। এই অভ্যাসগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করা এবং সন্তানদের শেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।