ইসলাম একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সহজ জীবনব্যবস্থা। এখানে অজুর পর শরীরের পানি মোছা বা না মোছার মতো সাধারণ বিষয় নিয়েও সুন্দর নির্দেশনা রয়েছে।
পানি মোছা কি জায়েজ?
ইসলামি ফিকহ ও শরিয়তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো— অজু শেষে তোয়ালে, গামছা বা রুমাল দিয়ে শরীরের পানি মুছে ফেলা সম্পূর্ণ হালাল ও বৈধ। এটি করা যাবে না বা করলে পাপ হবে— এমন কোনো নিয়ম ইসলামে নেই। প্রয়োজন অনুসারে পানি মুছে ফেলাটা একেবারেই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার।
নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিসের বিবরণ
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী পানি মুছেছেনও, আবার কখনো মোছেননি। দুটি দিকই হাদিসে এসেছে:
পানি মোছার সপক্ষে: উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর একটি সুনির্দিষ্ট তোয়ালে বা কাপড় ছিল, যা দিয়ে তিনি অজুর পানি মুছতেন। (সুনানে তিরমিজি: ৫৩)
না মোছার সপক্ষে: আবার কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, গোসল বা অজুর পর তাঁকে কাপড় দেওয়া হলেও তিনি তা ব্যবহার করেননি। (সহিহ মুসলিম: ৩১৭)
সংশ্লেষণ: এই বিপরীতমুখী দুটি হাদিস প্রমাণ করে যে, পানি মোছা এবং না মোছা—দুটোই বৈধ। আবহাওয়া বা ব্যক্তিগত সুবিধার ওপর ভিত্তি করে যে কেউ যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।
পানি না মুছলে কি সওয়াব বেশি হয়?
সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে এসেছে, অজুর সময় পানির সাথে মানুষের ছোটখাটো গুনাহগুলো ঝরে যায়। এই হাদিসটির আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যাকে ভুলভাবে বুঝে অনেকে মনে করেন পানি শুকাতে দিলে বুঝি বেশি নেকি হয়।
প্রকৃতপক্ষে, ধোয়ার সময়ই গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এরপর পানি শরীরে শুকানো হলো নাকি তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলা হলো, তার ওপর সওয়াব কমা বা বাড়া নির্ভর করে না।
কখন পানি মোছা জরুরি বা ভালো?
ইসলামি স্কলারদের মতে, পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে পানি মুছে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ…
শীতের ঋতুতে: তীব্র শীতে ভেজা শরীরে থাকলে ঠান্ডা লেগে অসুস্থ হওয়ার ভয় থাকে, তাই পানি মোছা উত্তম।
শারীরিক অসুস্থতায়: সর্দি, জ্বর বা অন্য কোনো অসুখ থাকলে দ্রুত শরীর শুকিয়ে ফেলা উচিত।
পোশাক ভেজার আশঙ্কা থাকলে: অজুর পানি ঝরে জামাকাপড় ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তোয়ালে ব্যবহার করা ভালো।