ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হলো পবিত্র রমজান মাসের রোজা। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর এই রোজা পালন করা ফরজ। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে রোজা ভেঙে গেলে বা পালন করতে না পারলে ইসলামে কাজা ও কাফফারা আদায়ের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
অসুস্থতা বা সফরের মতো গ্রহণযোগ্য কারণে রোজা রাখতে না পারলে পরবর্তীতে তা কাজা করা যায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে।” (সুরা বাকারা: ১৮৫)
যদি কেউ সফর বা অসুস্থতার কারণে রোজা রেখে ভেঙে ফেলে, তবে তাকে শুধু ওই একটি রোজার পরিবর্তে একটি ‘কাজা’ রোজা রাখতে হবে।
কখন কাফফারা ওয়াজিব হয়?
কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার বা যৌনমিলনের মাধ্যমে রমজানের রোজা ভেঙে ফেলে, তবে তার ওপর কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়। অর্থাৎ ওই একটি রোজার কাজার পাশাপাশি তাকে নির্ধারিত নিয়মে কাফফারা আদায় করতে হবে।
কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি
রোজা ভঙ্গের কাফফারা প্রধানত দুইভাবে আদায় করা যায়…
টানা ৬০ দিন রোজা রাখা: কাফফারা আদায়ের প্রধান পদ্ধতি হলো বিরতিহীনভাবে টানা ৬০ দিন রোজা রাখা। যদি ৬০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো একদিন রোজা ভেঙে যায়, তবে আগেরগুলো বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন করে আবার গণনা শুরু করতে হবে।
নারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম: কাফফারার রোজা চলাকালীন ঋতুস্রাব শুরু হলে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হবে না। ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে বিরতি দিয়ে পবিত্র হওয়ার পর পুনরায় রোজা শুরু করে মোট ৬০টি পূর্ণ করলে কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।
দরিদ্রদের অন্নদান (অক্ষমদের জন্য)
বার্ধক্য বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে কেউ যদি টানা ৬০ দিন রোজা রাখতে অক্ষম হন, তবে তিনি ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা পেটপুরে আহার করাবেন। অথবা ৬০ জন দরিদ্রকে দুই বেলা খাবারের সমপরিমাণ অর্থ দান করবেন।
আর্থিক হিসাব (২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট)
একজনের দুই বেলা খাবারের মূল্য সাধারণত সদকায়ে ফিতরের সর্বনিম্ন পরিমাণের সমান ধরা হয়।
এ বছর সদকায়ে ফিতরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ১১০ টাকা হলে, ৬০ জনের খাবারের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৬,৬০০ টাকা।
কেউ যদি কাফফারার নিয়তে এই পরিমাণ অর্থ দান করেন, তবে তার কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।
সতর্কবার্তা
রমজানের রোজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অবহেলায় রোজা ছুটে গেলে বা ভেঙে ফেললে যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর কাছে তওবা করে কাজা ও কাফফারা আদায় করা জরুরি। যেকোনো নফল রোজার চেয়ে রমজানের কাজা রোজা সম্পন্ন করা অনেক বেশি সওয়াব ও গুরুত্বের কাজ।