বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইয়ারবাড। জিম, অফিস কিংবা যাতায়াতের পথে কানে এক জোড়া খুদে ডিভাইস এখন নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য। তবে এই স্বাচ্ছন্দ্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে শ্রবণশক্তি হারানোর বড় ঝুঁকি। সম্প্রতি চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ইয়ারবাডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন।
কেন ইয়ারবাড বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
সাধারণ হেডফোন কানের ওপর বসানো থাকে, কিন্তু ইয়ারবাড সরাসরি কানের ছিদ্রের গভীরে প্রবেশ করানো হয়। এতে শব্দের উৎস কানের পর্দার (Eardrum) অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে। ফলে শব্দের তীব্রতা সরাসরি আমাদের অভ্যন্তরীণ কানের সূক্ষ্ম কোষগুলোতে আঘাত হানে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, অনিরাপদ শ্রবণ অভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১১০ কোটি তরুণ-তরুণী পাকাপাকিভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
‘৬০/৬০’ নিয়ম: কানের সুরক্ষায় অব্যর্থ কৌশল
দীর্ঘক্ষণ কানে ইয়ারবাড গুঁজে রাখার অভ্যাস থাকলে বিশেষজ্ঞরা ‘৬০/৬০’ (60/60 Rule) সূত্রটি মেনে চলার পরামর্শ দেন।
ভলিউম ৬০%: ডিভাইসের সর্বোচ্চ শব্দের মাত্রার ৬০ শতাংশের বেশি ভলিউমে কিছু শুনবেন না।
৬০ মিনিট সময়: একটানা ৬০ মিনিটের বেশি কানে ইয়ারবাড রাখবেন না। প্রতি এক ঘণ্টা পর পর অন্তত ১০-১৫ মিনিটের বিরতি দিন যাতে কানের ভেতরের কোষগুলো বিশ্রাম পায়।
লম্বার্ড ইফেক্ট ও নয়েজ ক্যানসেলেশন
রাস্তায় বা বাসের কোলাহলে আমরা অজান্তেই বাইরের শব্দ ঢাকতে ভলিউম বাড়িয়ে দিই। একে বলা হয় ‘লম্বার্ড ইফেক্ট’। এই উচ্চ শব্দ কানের ভেতরের সংবেদনশীল কোষগুলোকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণ ইয়ারবাডের চেয়ে অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন (ANC) যুক্ত ইয়ারবাড ব্যবহার করা নিরাপদ, কারণ এটি বাইরের শব্দ কমিয়ে দেয় ফলে ব্যবহারকারীকে ভলিউম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না।
সংক্রমণের ঝুঁকি ও অন্যান্য সমস্যা
দীর্ঘক্ষণ কানে প্লাস্টিক বা সিলিকনের বাড গেঁথে রাখলে কানের ভেতরে বাতাস চলাচলে বাধা পায়। এতে কানের ভেতর ঘাম ও আর্দ্রতা জমে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের (Ear Infection) আশঙ্কা বাড়ে। এছাড়া নিয়মিত ব্যবহারে কানের স্বাভাবিক খৈল বা ময়লা আরও গভীরে চলে গিয়ে কান বন্ধ হওয়া বা ভোঁ ভোঁ শব্দ (Tinnitus) হওয়ার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সুস্থ থাকার ৪টি কার্যকরী টিপস
১. বিরতি নিন: একটানা দীর্ঘ সময় অডিওবুক বা গান শোনা থেকে বিরত থাকুন।
২. পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত ইয়ারবাডের টিপসগুলো পরিষ্কার করুন যাতে জীবাণু না ছড়ায়।
৩. এক কানে শোনার অভ্যাস: কল করার সময় বা দীর্ঘ মিটিংয়ে সম্ভব হলে একটি বাড ব্যবহার করুন এবং পর্যায়ক্রমে কান পরিবর্তন করুন।
৪. সতর্ক সংকেত: কানে ব্যথা, অস্বস্তি বা শোঁ শোঁ শব্দ অনুভব করলে দ্রুত ইয়ারবাড ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।