Saturday 04 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গয়না না পরলে কি স্বামীর অমঙ্গল হয়?

সারাবাংলা ডেস্ক
৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৩৮

আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা রয়েছে যে, বিবাহিত নারীরা হাতে চুড়ি বা নাকে নাকফুল না পরলে স্বামীর অমঙ্গল হয় কিংবা স্বামীর আয়ু কমে যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজে এই বিশ্বাস অত্যন্ত প্রবল। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এই ধারণার সত্যতা কতটুকু? কোরআন ও হাদিস কি এমন কোনো বাধ্যবাধকতা দেয়?

এটি একটি অমূলক কুসংস্কার

ইসলামী শরিয়তের বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ত্রীর অলংকার পরা বা না পরার সাথে স্বামীর কল্যাণ-অকল্যাণ কিংবা দীর্ঘায়ুর কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো নিছক ভ্রান্ত ধারণা এবং মনগড়া কুসংস্কার। ইসলামে ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ কেবল মহান আল্লাহর হাতে। কোনো জড় বস্তু বা অলংকার কারো ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না। এমন বিশ্বাস লালন করা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অলংকার পরিধান কি বাধ্যতামূলক?

ইসলামে বিবাহিত বা অবিবাহিত, কোনো নারীর জন্যই অলংকার পরা বাধ্যতামূলক বা ফরজ করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ একজন নারীর নিজস্ব রুচি ও পছন্দের বিষয়। অলংকার না পরলে কোনো গুনাহ হবে না। তবে নারীরা নিজেদের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বৈধ উপায়ে অলংকার ব্যবহার করতে পারেন, যা ইসলামে জায়েজ বা অনুমোদিত।

হাদিসের আলোকে প্রমাণ

আরবে জাহেলি যুগ থেকেই নারীদের অলংকার ব্যবহারের প্রচলন ছিল এবং ইসলাম একে নিষিদ্ধ করেনি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের নারী সাহাবিরাও অলংকার ব্যবহার করতেন।

সহিহ বুখারির (হাদিস নং: ১৪৩১) একটি বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,

‘নবীজি (সা.) এক ঈদের দিন নামাজ শেষ করে বেলালকে (রা.) সঙ্গে নিয়ে নারীদের কাছে গেলেন। তিনি তাদের সদকা করতে উৎসাহ দিলেন। তখন নারীরা (দান করার উদ্দেশ্যে) তাদের কানের দুল এবং হাতের চুড়ি খুলে দিতে লাগলেন।’

এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, তৎকালীন সময়ে নারীরা চুড়ি ও দুল পরিধান করতেন এবং নবীজি (সা.) তাতে কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেননি। বরং তিনি তা অনুমোদন করেছেন।

ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ও সারকথা

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, নারীদের অলংকার পরিধান করা ‘মুস্তাহাব’ (পছন্দনীয়) বা ‘ফজিলতপূর্ণ’ কোনো কাজ নয় যে এটি করতেই হবে। এটি একটি সাধারণ অনুমতি বা ‘মুুবাহ’ কাজ।

ইচ্ছা ও স্বাধীনতা: নারীরা চাইলে নাক-কান ফোঁড়াতে পারেন এবং অলংকার পরতে পারেন। আবার না চাইলে নাও পরতে পারেন।

স্বামীর অমঙ্গল প্রসঙ্গে: অলংকারের সাথে স্বামীর হায়াত বা মউতের কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ যদি মনে করে অলংকার না পরলে স্বামীর ক্ষতি হবে, তবে তাকে এই ভ্রান্ত বিশ্বাস পরিহার করতে হবে।