Wednesday 08 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ছেঁড়া বা তালি দেয়া কাপড় পরা কি সুন্নত?

সারাবাংলা ডেস্ক
৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩৭

পোশাক কেবল শরীর ঢাকার মাধ্যম নয়; বরং এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব, রুচি ও আত্মমর্যাদার প্রতিফলন। ইসলামি জীবনদর্শনে পোশাক হলো শালীনতা, পরিচ্ছন্নতা ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্যের প্রতীক। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাধারণ জীবনযাপন বোঝাতে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেঁড়া বা জীর্ণ পোশাক পরাকে ‘সুন্নত’ হিসেবে প্রচার করেন।

কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই ধারণাটি কতটুকু সঠিক আসুন তা জেনে নেই…

পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য: ইসলামের মূল দর্শন

ইসলাম পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৯১)

বিজ্ঞাপন

এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিজেকে নোংরা বা জীর্ণ অবস্থায় রাখা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত পোশাক পরাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

নেয়ামতের বহিঃপ্রকাশ: জীর্ণ পোশাক পরিহার

রাসুলুল্লাহ (সা.) সামর্থ্যবানদের জীর্ণ পোশাক পরা পছন্দ করতেন না। হজরত আবু আহওয়াস (রা.)-এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি একবার জীর্ণ পোশাকে নবীজি (সা.)-এর দরবারে এলে রাসুল (সা.) তাকে তার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে তিনি বলেন:

‘আল্লাহ যখন তোমাকে সম্পদ দিয়েছেন, তখন তোমার ওপর তার নেয়ামতের চিহ্ন থাকা উচিত।’ (সুনানে নাসায়ি: ৫২২৩)

অর্থাৎ, কৃত্রিম দীনতা প্রদর্শনের জন্য ছেঁড়া বা জীর্ণ পোশাক পরা সুন্নত নয়, বরং এটি আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা।

তালি দেওয়া কাপড়: মিতব্যয়িতা বনাম প্রদর্শন ইচ্ছা

রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) অনেক সময় তালি দেওয়া (প্যাচ লাগানো) কাপড় পরেছেন। তবে এটি ছিল তাদের সরলতা ও অপচয় বর্জনের বাস্তব প্রতিফলন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) নিজের কাপড় নিজে মেরামত করতেন (সহিহ বুখারি)।

এখান থেকে বোঝা যায়, কাপড় ছিঁড়ে গেলে তা ফেলে না দিয়ে মেরামত করে পরা মিতব্যয়িতা ও সওয়াবের কাজ। কিন্তু লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বা নিজেকে পরহেজগার প্রমাণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তালি দেওয়া বা ছেঁড়া কাপড় পরা সঠিক নয়।

‘খ্যাতি লাভের পোশাক’ ও কঠোর হুশিয়ারি

ইসলামে ‘লিবাসুশ শুহরাহ’ বা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিশেষ পোশাক পরা নিষিদ্ধ। হাদিসে এসেছে:

‘যে ব্যক্তি খ্যাতি লাভের জন্য (অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম) পোশাক পরে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে অপমানের পোশাক পরাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪০২৯)

আলেমদের মতে, এটি অতি দামি পোশাক যেমন হতে পারে, তেমনি কৃত্রিমভাবে তৈরি জীর্ণ পোশাকও হতে পারে, যা মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে পরা হয়।

উল্লেখ্য, ইসলাম পোশাকের ক্ষেত্রে সর্বদা মধ্যমপন্থা বা ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। সুন্নত হলো এমন পোশাক পরা যা পরিচ্ছন্ন, মার্জিত এবং সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কাপড় ছিঁড়ে গেলে তা মেরামত করে পরা মিতব্যয়িতার পরিচায়ক, যা প্রশংসনীয়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ছেঁড়া পোশাক পরে নিজেকে ‘সুফি’ বা ‘অনাড়ম্বর’ প্রমাণ করার চেষ্টা করা শরিয়তসম্মত নয়।