Saturday 10 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ব্রাসেলস টাউন হল: আকাশে ছোঁয়া ইতিহাসের এক নিখুঁত কারুকাজ

ফারহানা নীলা
১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:১০

ব্রাসেলস টাউন হল, ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর চত্বরগুলোর একটিতে দাঁড়ালে যে কারো নজর কাড়বে আকাশমুখী এক সুউচ্চ টাওয়ার। এটি ব্রাসেলসের ঐতিহাসিক টাউন হল। উনবিংশ বা বিংশ শতাব্দীর আধুনিকতা নয়, বরং আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগের মানুষের শিল্পবোধ কতটা প্রখর ছিল, এই ভবনটি তারই জীবন্ত প্রমাণ।

স্থাপত্যের বিস্ময়: গথিক শৈলী

এই ভবনটি মূলত ব্রাবান্টাইন গথিক স্থাপত্যশৈলীর এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ভবনের গায়ের অসংখ্য খিলান, ছোট ছোট স্তম্ভ এবং সূক্ষ্ম নকশা। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো মাঝখানের ৯৬ মিটার উঁচু টাওয়ারটি। এর চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে ব্রাসেলসের রক্ষাকর্তা সেন্ট মাইকেলের একটি স্বর্ণখচিত মূর্তি, যা একটি ড্রাগনকে পরাজিত করার ভঙ্গিমায় রয়েছে। একটি মজার বিষয় হলো, ভবনটি পুরোপুরি সুষম নয়। টাওয়ারের দুই পাশের অংশগুলো দৈর্ঘ্যে কিছুটা কম-বেশি। লোকগাথা প্রচলিত আছে যে, এই ভুলটি লক্ষ্য করার পর এর প্রধান স্থপতি দুঃখে আত্মহত্যা করেছিলেন। যদিও এর কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

ইতিহাসের সাক্ষী

১৪০১ সাল থেকে ১৪৫৫ সালের মধ্যে এই ভবনটি ধাপে ধাপে নির্মিত হয়। ১৬৯৫ সালে যখন ফরাসি সেনাবাহিনী ব্রাসেলসে প্রচণ্ড কামানের গোলাবর্ষণ করে, তখন পুরো চত্বরের প্রায় সব ভবন ধ্বংস হয়ে গেলেও এই টাউন হলটি অলৌকিকভাবে টিকে যায়। পরবর্তীতে এর ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশগুলো সংস্কার করা হয় এবং এর সম্মুখভাগকে আরও সুন্দর করে সাজানো হয়।

ভাস্কর্যের ভিড়

টাউন হলের দেয়ালগুলোতে তাকালে দেখা যায় শত শত ছোট ছোট পাথরের ভাস্কর্য। এগুলো ব্রাসেলসের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সাধু এবং তৎকালীন অভিজাত পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব করে। ভবনটির নিচের তলায় সারিবদ্ধ খোলা বারান্দা বা আর্কড প্যাসেজ রয়েছে, যা এক সময় বাজারের কেনাবেচার কাজে ব্যবহৃত হতো।

বর্তমান গুরুত্ব

বর্তমানে এটি ব্রাসেলসের সিটি কাউন্সিলের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে পর্যটকদের জন্য এর ভেতরে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক চেম্বারগুলো দেখার সুযোগ রয়েছে। প্রতি দুই বছর অন্তর যখন গ্র্যান্ড প্লেস চত্বরটি বিশাল এক ‘ফ্লাওয়ার কার্পেট’ বা ফুলের গালিচায় ঢেকে দেওয়া হয়, তখন এই টাউন হলের বারান্দা থেকেই সেই অপরূপ দৃশ্য সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।

একটি তথ্যবহুল টিপস

গ্র্যান্ড প্লেস বা গ্র্যান্ড প্যালেস চত্বরটি রাতে একবার দেখা পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক। সন্ধ্যার পর যখন টাউন হলের দেয়ালে সোনালী আলোকসজ্জা বা লাইট শো শুরু হয়, তখন পুরো জায়গাটিকে সিনেমার কোনো রূপকথার প্রাসাদের মতো মনে হয়।

প্রচ্ছদের ছবি: সংগৃহীত

ভেতরের ছবি: লেখক

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

সিলেটে বাসচাপায় মা-মেয়ে নিহত
১০ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:৪২

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন