Monday 04 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হজের সফর সফল করতে জরুরি কিছু দিকনির্দেশনা

সারাবাংলা ডেস্ক
৪ মে ২০২৬ ১৫:০৩

হজ কেবল একটি ভৌগোলিক ভ্রমণ বা নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতার নাম নয়; এটি একজন মুমিনের অন্তরের গহীন থেকে পরম সত্তার দিকে ধাবিত হওয়ার এক রূহানি যাত্রা। যখন পৃথিবীর সমস্ত বিভেদ ভুলে, আভিজাত্য বিসর্জন দিয়ে একজন মানুষ কাফনসদৃশ শুভ্র বসনে ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত করেন, তখন তার অস্তিত্বে এক অপার্থিব প্রশান্তি নেমে আসে। এই সফর হলো স্রষ্টার সামনে নিজের ক্ষুদ্রতাকে স্বীকার করে নেওয়ার চূড়ান্ত সুযোগ। তাই হজের প্রতিটি কদমে আদব রক্ষা করা এবং সুন্নাহর রঙে নিজেকে রাঙানোই একজন খাঁটি ‘আল্লাহর মেহমান’-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত।

হৃদয়ে ইখলাস ও স্রষ্টার স্মরণ

বিজ্ঞাপন

হজের প্রতিটি পর্যায়, মিনা, আরাফা কিংবা মুজদালিফা সবকিছুর মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা। যেকোনো আমল শুরুর আগে নিয়ত পরিশুদ্ধ করে নিতে হবে। প্রতিটি দোয়া ও জিকিরের অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন, যাতে হৃদয়ে গভীর অনুভূতির জন্ম হয়। লোকদেখানো মনোভাব বর্জন করে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর মনোনিবেশ করা জরুরি।

সুন্নাহর যথাযথ অনুকরণ

হজ কবুল হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো তা নবী কারিম (সা.)-এর দেখানো আদর্শ মোতাবেক সম্পন্ন করা। ইহরাম বাঁধা থেকে শুরু করে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত প্রতিটি কাজ নির্ভুলভাবে পালন করতে নির্ভরযোগ্য কিতাব বা বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ নিতে হবে। সুন্নাহর বিচ্যুতি হজের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়।

নামাজের ব্যাপারে দৃঢ়তা

সফরের ক্লান্তি কিংবা মানুষের ভিড়ের অযুহাতে নামাজে অবহেলা করা মোটেও কাম্য নয়। বিমানে ভ্রমণকালীন কিংবা মিনা-আরাফায় অবস্থানকালে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কসর বা পূর্ণ নামাজের সঠিক নিয়মগুলো সফর শুরুর আগেই আয়ত্ত করে নেওয়া জরুরি।

ধৈর্যের পরীক্ষা ও হাসিমুখে কষ্ট সহ্য করা

হজ মূলত ত্যাগের এক ঐতিহাসিক স্মারক। আধুনিক যুগে সুযোগ-সুবিধা বাড়লেও এই সফরে কিছুটা কষ্ট হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এই প্রতিকূলতাকে বিরক্তি হিসেবে না দেখে বরং নেকি অর্জনের উপায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। সবর বা ধৈর্যের মাধ্যমেই হজের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করা সম্ভব।

কলহ ও পাপাচার থেকে মুক্তি

ইহরাম অবস্থায় মুমিনের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ থাকে। পবিত্র কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী, হজের সময় কোনো অশ্লীলতা, গুনাহ বা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া নিষিদ্ধ। হোটেল রুম, খাবারের লাইন বা যাতায়াতের ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে সহযাত্রীদের সাথে তর্কে জড়ানো হজের মাহাত্ম্য ক্ষুণ্ণ করে। ক্ষমাশীল মনোভাবই একজন প্রকৃত হাজির বৈশিষ্ট্য।

সহযাত্রীদের সেবা ও সম্মান প্রদর্শন

রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা অনুযায়ী, অন্য মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা ঈমানের অংশ। হজের সফরসঙ্গীরা প্রত্যেকেই আল্লাহর মেহমান। তাদের সাহায্য করা বা তাদের প্রতি বিনয়ী হওয়া মানে স্বয়ং আল্লাহর মেহমানদারির প্রতি সম্মান দেখানো। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ হাজিদের প্রতি সহমর্মী হওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

পরিমিত ব্যয় ও উদারতা

হজের সফরে আল্লাহর পথে খরচ করা অত্যন্ত বরকতময়। নিজের ও অন্যদের সেবায় কার্পণ্য না করে সাধ্যমতো উদার হওয়া উচিত। তবে মনে রাখতে হবে, এই উদারতা যেন অপচয়ে রূপ না নেয়। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা মুমিনের গুণ।

সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তির পরিমিত ব্যবহার

বর্তমান সময়ে হজের আধ্যাত্মিক পরিবেশের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার। কাবার সামনে সেলফি তোলা বা ইবাদতের মুহূর্তগুলো ফেসবুক লাইভে শেয়ার করার মাধ্যমে রিয়া বা লোকদেখানো মানসিকতা চলে আসতে পারে। প্রযুক্তির ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে একান্ত সময়টুকু আল্লাহর ধ্যানে ব্যয় করা উচিত।

পরিচ্ছন্নতা ও সুস্থ পরিবেশ রক্ষা

‘পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ’, এই মূলমন্ত্র হজের সফরেও বজায় রাখা দরকার। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে পরিবেশ যেন দূষিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রত্যেক হাজির নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে গণশৌচাগার ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং মেঝে শুকনো রাখা জরুরি, যাতে অন্য কেউ বিপদে না পড়েন।

মতভিন্নতা নিয়ে বিচলিত না হওয়া

বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মুসলমানদের ইবাদতের পদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। এ নিয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া বা বিচলিত হওয়া বোকামি। আমাদের দেশের বিজ্ঞ আলেমদের দেখানো পথ ও হানাফি মাজহাবের আলোকে নিজের আমলগুলো সঠিকভাবে পালন করে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কেনাকাটায় আসক্তি বর্জন

হজের শেষ দিনগুলোতে অনেকে শপিং বা কেনাকাটায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন। মনে রাখা দরকার, এটি কোনো শপিং ট্যুর নয়, বরং আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের সফর। কেনাকাটার পেছনে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে বেশি বেশি নফল ইবাদত ও তওবা-ইসতিগফারে মগ্ন থাকাই শ্রেয়।

বিজ্ঞাপন

২৭ বছর পর ফিরছে ‘তাল’
৪ মে ২০২৬ ১৫:১৬

আরো

সম্পর্কিত খবর