Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মুখের লাগাম ও নীরবতার গুরুত্ব

সারাবাংলা ডেস্ক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:২৯

কথায় বলে, ‘জিহ্বা একটি ছোট অঙ্গ, কিন্তু এর অপরাধ বিশাল।’ মানুষের ভিড়ে আমরা নানা স্বভাবের মানুষ দেখি, কেউ অনর্গল কথা বলতে ভালোবাসেন, আবার কেউ প্রয়োজনটুকু ছাড়া নীরব থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সাধারণত যারা কম কথা বলেন, সমাজ অনেক সময় তাদের ‘অহংকারী’, ‘গম্ভীর’ বা ‘অসামাজিক’ বলে ধরে নেয়। অথচ ইসলামে এই নীরবতা বা স্বসংযমের মূল্যায়ন অত্যন্ত গভীর। একজন সচেতন মুমিনের জীবনে মুখের ভাষা এবং নীরবতার সীমানা ঠিক কতটুকু, তা জানলে কম কথা বলা মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে যাবে।

ইসলাম অনর্থক বা অহেতুক কথা বলা থেকে বিরত থাকতে তাগিদ দিয়েছে। তবে সব পরিস্থিতিতে চুপ থাকাই উত্তম, এমনটি নয়। কখন মুখ খুলতে হবে আর কখন নীরব থাকতে হবে, তা জানাই একজন প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়।

বিজ্ঞাপন

কম কথা নয়, প্রয়োজন কল্যাণকর কথা

কথা কতটা বলা হলো, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কী কথা বলা হলো। কথার মান ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ৬০১৮; সহিহ মুসলিম: ৪৭)

অর্থাৎ, আপনার কথা যদি সমাজে শান্তি আনে, সত্য প্রচার করে কিংবা কারও উপকারে আসে, তবে তা স্পষ্টভাবে বলা উচিত। কিন্তু সেই কথা যদি গুনাহ, ঝগড়া কিংবা অনর্থক বিতর্কের জন্ম দেয়, তবে জিভকে সংবরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

নীরবতা মুক্তির পথ দেখায়

মানুষের সিংহভাগ ভুল বা পাপাচার সংঘটিত হয় তার মুখের কথার মাধ্যমে। মিথ্যা, গিবত (পরনিন্দা), অপবাদ কিংবা কটু কথার মতো গুরুতর অপরাধ থেকে বাঁচার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো জবান নিয়ন্ত্রণে রাখা।

এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি নীরব রইল, সে মুক্তি পেল।’ (জামে তিরমিজি: ২৫০১)

পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘মানুষ যে শব্দই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত পর্যবেক্ষক তার কাছেই থাকে।’ (সুরা কাফ: ১৮)

অতএব, কম কথা বলার অভ্যাস যদি কাউকে মন্দ কাজ ও পাপাচার থেকে দূরে রাখে, তবে তা নিঃসন্দেহেই এক প্রশংসনীয় ও বরকতময় গুণ।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ

জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিকাংশ সময় নীরবতা পছন্দ করতেন এবং প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না। (মুসনাদে আহমদ: ৬৩০৮)

তার মানে এই নয় যে তিনি মানুষের সাথে মেলামেশা বা কথাবার্তা বলতেন না। তিনি যখনই কথা বলতেন, তা ছিল অর্থবহ, সত্য, স্পষ্ট ও কল্যাণে পরিপূর্ণ। ইসলাম অতিরিক্ত বাকপটুতা যেমন পছন্দ করে না, তেমনি অকারণে সামাজিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে একদম চুপচাপ বসে থাকাকেও উৎসাহিত করে না।

অন্যায়ের মুখে নীরব থাকা বর্জনীয়

সব পরিস্থিতিতে নীরব থাকা প্রশংসনীয় নয়। অন্যায়, জুলুম, মিথ্যা বা কারও অধিকার খর্ব হতে দেখলে সত্য উচ্চারণ করা ঈমানের দাবি।

কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে বাধা দেবে।’ (সুরা আলে ইমরান: ১১০)

তাই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ‘আমি চুপ থাকব’-এমন মনোভাব রাখা ইসলামসম্মত নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সত্য ও সুসংবাদ প্রকাশ করাও একজন মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব।

প্রজ্ঞার মাপকাঠি

কাউকে শুধু তার কম কথা বলার স্বভাব দেখে বিচার করা অন্যায়। যে ব্যক্তি অহেতুক কথা এড়িয়ে চলে, সে হয়তো নিজের প্রতিটি শব্দের হিসাব আল্লাহর কাছে দেওয়ার অনুশোচনা ও সচেতনতা থেকেই তা করে।

ইসলাম আমাদের শেখায়, অহেতুক মুখ খোলার চেয়ে নীরবতা হাজার গুণ ভালো, আবার সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে নীরবতা ভেঙে সোচ্চার হওয়াও ঈমানের চূড়ান্ত পরীক্ষা। বলা ও চুপ থাকার এই সুষম ভারসাম্য রক্ষা করাই একজন আদর্শ মুমিনের আসল বৈশিষ্ট্য।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

মুখের লাগাম ও নীরবতার গুরুত্ব
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:২৯

মরিচ গাছে প্রচুর ফলন পাওয়ার কৌশল
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:১৬

আরো

সম্পর্কিত খবর