প্রয়োজনীয় কোনো জিনিস হারিয়ে গেলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক মানুষের স্বভাব। কিন্তু এই অস্থির মুহূর্তে একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে তার ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর আস্থার মাধ্যমে। কারণ যেকোনো বিপদে মুমিনের প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার হলো ধৈর্য ধারণ করা এবং একমাত্র মহান আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৫)
যেকোনো বিপদ-আপদ ও পেরেশানিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা আল্লাহর শরণাপন্ন হতেন। বিপদে পড়লে তিনি সালাত আদায় করতেন এবং বিনম্রচিত্তে দোয়া করতেন।
হারানো বস্তু ফিরে পাওয়ার দোয়া
কারও কোনো মূল্যবান জিনিস হারিয়ে গেলে তা ফিরে পাওয়ার আশায় আল্লাহর কাছে দোয়া করা সুন্নাত। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর একটি আমল বর্ণিত রয়েছে। কোনো কিছু হারিয়ে গেলে তিনি উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করতেন এবং তাশাহহুদ পড়ার পর এই বিশেষ দোয়াটি পাঠ করতেন…
উচ্চারণ: ইয়া হাদিয়াদ্-দাল্লি, ওয়া রাদ্দাদ্-দাল্লাতি, উরদুদ আলাইয়্যা দাল্লাতি বি-ইজ্জতিকা ওয়া সুলতানিকা, ফা-ইন্নাহা মিন আতায়িকা ওয়া ফাদলিকা।
অর্থ: হে পথহারাদের পথপ্রদর্শক, হে হারানো বস্তু ফিরিয়ে দানকারী! আপনার সম্মান ও ক্ষমতার উসিলায় আমার হারানো জিনিসটি আমাকে ফিরিয়ে দিন। নিশ্চয়ই তা আপনার দান ও অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত।
বিপদ ও ক্ষতির মুহূর্তে পড়ার দোয়া
কোনো কিছু চিরতরে হারিয়ে গেলে বা বড় কোনো বিপদে পড়লে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে উত্তম বিকল্প প্রার্থনা করা উচিত। এ প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনিন হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে একটি চমৎকার হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলিম বিপদে পড়ে যদি আল্লাহর শেখানো এই দোয়া পাঠ করে, তবে আল্লাহ তাকে সেই বিপদের বিনিময়ে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন…
উচ্চারণ: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহুম্মা আজুরনি ফি মুসিবাতি, ওয়া আখলিফ লি খাইরান মিনহা।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তার কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ, আমার বিপদে আমাকে প্রতিদান দিন এবং এর পরিবর্তে আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১৮)
পরিশেষে বলা যায়, কোনো মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে গেলে নিরাশ না হয়ে সাধ্যমতো খোঁজাখুঁজি করার পাশাপাশি মনকে শান্ত রাখতে আল্লাহর স্মরণে মশগুল হওয়া উচিত। এই ধরনের দোয়া ও আমল মানুষের মনে অসীম মানসিক শক্তি জোগায় এবং বিপদ কাটিয়ে ওঠার হিম্মত দেয়। তবে মনে রাখা ভালো, নির্দিষ্ট কোনো আমল বা দোয়া করলেই হারানো বস্তু হুবহু হাতে চলে আসবে এমন নয়; বরং এটি হলো আল্লাহর ফয়সালাকে হাসিমুখে মেনে নেওয়া এবং তাকদীরের ওপর পূর্ণ সমর্পণের অনন্য এক ইবাদত।