ঢাকা: ঈদ কেবল উৎসবের দিন নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার লাভের এক মহিমান্বিত ক্ষণ। ঈদের এই আনন্দকে পূর্ণতা দিতে এবং প্রতিটি কাজকে ইবাদতে পরিণত করতে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা অপরিহার্য। নবীজি (সা.)-এর নির্দেশিত পথেই রয়েছে প্রকৃত সার্থকতা ও পরকালীন কল্যাণ। ঈদের দিনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমল নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা: ঈদের দিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠা সুন্নাহ, যাতে ইবাদত ও প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
২. মিসওয়াক ও গোসল করা: ঈদের নামাজের আগে মিসওয়াক করা এবং উত্তমরূপে গোসল করা সুন্নত। এটি শারীরিক পবিত্রতার পাশাপাশি মনের সজীবতা বৃদ্ধি করে।
৩. সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরা: আপনার সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে পরিষ্কার এবং সুন্দর পোশাকটি পরিধান করুন। নতুন হওয়া জরুরি নয়, তবে পরিচ্ছন্ন হওয়া আবশ্যক।
৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা: গোসলের পর সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা সুন্নত (পুরুষদের জন্য)।
৫. মিষ্টিমুখ করা: ঈদুল ফিতরের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে বেজোড় সংখ্যক (১টি, ৩টি বা ৫টি) খেজুর বা অন্য কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া সুন্নত।
৬. সদকাতুল ফিতর আদায় করা: ঈদের নামাজের আগেই ‘ফিতরা’ আদায় করে দেওয়া সুন্নত। এতে দরিদ্র মানুষরাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে।
৭. হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া: কোনো অসুবিধা না থাকলে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া উত্তম। এটি ভ্রাতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
৮. যাওয়ার পথে তাকবির পাঠ: ঈদগাহে যাওয়ার সময় নিচু স্বরে এই তাকবিরটি পাঠ করা সুন্নত:
‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
৯. ভিন্ন পথে আসা-যাওয়া: ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথ ব্যবহার করা এবং নামাজ শেষে ফেরার সময় অন্য পথ ব্যবহার করা একটি সুন্দর সুন্নাহ। এতে বেশি মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।
১০. শুভেচ্ছা বিনিময় করা: সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন একে অপরের সাথে দেখা হলে বলতেন:
‘তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’
(অর্থ: আল্লাহ আমাদের এবং আপনার পক্ষ থেকে নেক আমলগুলো কবুল করুন)।
উল্লেখ্য, ঈদের আনন্দ কেবল নতুন পোশাক বা ভূরিভোজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর। সুন্নতসম্মত এই আমলগুলো পালনের মাধ্যমে আমরা যেমন সওয়াব অর্জন করতে পারি, তেমনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকেও দৃঢ় করতে পারি। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত আমাদের এই ঈদ হোক নিরাপদ, বরকতময় এবং সুন্নাহের আলোয় আলোকিত।