সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে। এই পুরনো প্রবাদ এখন সেকেলে। আধুনিক লাইফস্টাইল বলছে, সংসার সুখী হয় দুজনের সমবন্টন, বোঝাপড়া আর কিছু ‘আনস্পোকেন রুলস’ বা অলিখিত নিয়মে। সম্পর্কের শুরুতে যে প্রজাপতি ওড়া আবেগ থাকে, তা সময়ের সাথে সাথে ফিকে হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই আবেগকে পরিণত ভালোবাসায় রূপান্তর করার নামই হলো সার্থকতা। চলুন দেখে নিই, সুখী দম্পতিদের জীবনের সেই গোপন অধ্যায়গুলো যা তাদের সম্পর্ককে বছরের পর বছর সতেজ রাখে।
স্পর্শের জাদুকরী ভাষা
যৌনতা বা শারীরিক আকাঙ্ক্ষাই একমাত্র স্পর্শ নয়। সুখী দম্পতিরা জানেন, একটি ছোট আলিঙ্গন বা হাত ধরার ক্ষমতা কতটা। কাজে বেরোনোর সময় একটা ছোট্ট বিদায়ি চুম্বন কিংবা সোফায় বসে টিভি দেখার সময় পাশাপাশি ঘাড় ঠেকিয়ে বসা।এই ছোট ছোট স্পর্শগুলো মস্তিষ্কে ‘অক্সিটোসিন’ হরমোন নিঃসরণ করে, যা দুজন মানুষের মধ্যে বিশ্বাসের দেয়াল আরও মজবুত করে। এটি কোনো রুটিন নয়, বরং এটি হলো ‘আমি তোমার পাশে আছি’ বোঝানোর সবচেয়ে সহজ শারীরিক ভাষা।
‘মি টাইম’ বনাম ‘উই টাইম’
অনেকেই মনে করেন সুখী হওয়া মানে সারাক্ষণ আঠার মতো লেগে থাকা। অথচ মনোবিজ্ঞান বলছে উল্টো কথা। সম্পর্কে একটু দূরত্ব থাকা মানে বিচ্ছেদ নয়, বরং সুস্থতা। আপনার যদি বই পড়ার শখ থাকে আর আপনার সঙ্গীর থাকে ফুটবল দেখা, তবে একে অপরকে সেই সময়টুকু দিন। নিজেদের আলাদা শখ বা জগত থাকলে যখন আপনারা দিনের শেষে আবার মিলিত হন, তখন একে অপরের সাথে শেয়ার করার মতো নতুন কিছু থাকে। স্বকীয়তা বজায় রাখা দম্পতিরাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি সুখী হন।
দোষ-ত্রুটির শৈল্পিক গ্রহণযোগ্যতা
পৃথিবীতে কোনো মানুষই ‘পারফেক্ট’ সফটওয়্যার নিয়ে জন্মায় না। প্রত্যেকেরই কিছু খিটখিটে স্বভাব বা ছোটখাটো ভুল করার প্রবণতা থাকে। সুখী দম্পতিরা একে অপরের ভুলগুলো নিয়ে জনসমক্ষে সমালোচনা করেন না। তারা জানেন কখন এড়িয়ে যেতে হয় আর কখন সংশোধন করতে হয়। সঙ্গীর সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে তার ভালো দিকগুলোকে হাইলাইট করাই হলো প্রকৃত আভিজাত্য। ক্ষমা করতে পারা সম্পর্কের সবচেয়ে বড় অক্সিজেন।
আর্থিক স্বচ্ছতা: ভালোবাসার বাস্তব ভিত্তি
শুনতে রূঢ় মনে হলেও সত্যি যে, বর্তমান যুগে অনেক ডিভোর্সের মূল কারণ হলো আর্থিক কলহ। সুখী দম্পতিরা টাকার হিসাব আড়াল করেন না। তাদের মধ্যে আয়ের উৎস এবং ব্যয়ের খাত নিয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকে। বড় কোনো বিনিয়োগ বা কেনাকাটার আগে তারা ‘টিম’ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেন। মনে রাখবেন, ব্যাংক ব্যালেন্স হয়তো আলাদা হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্যটা হওয়া চাই এক।
পরিবারের সাথে সেতুবন্ধন
বিয়ের পর সম্পর্কটা শুধু দুজনের থাকে না, জড়িয়ে যায় দুটি পরিবার। সঙ্গীর বাবা-মা বা আত্মীয়দের প্রতি সম্মান দেখানো মানেই হলো সঙ্গীকে পরোক্ষভাবে সম্মান করা। সুখী দম্পতিরা একে অপরের পরিবারের সাথে একটি উষ্ণ কিন্তু মার্জিত দূরত্ব বজায় রেখে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিবাদের শিষ্টাচার
ঝগড়া হবে না। এমন সম্পর্ক কাল্পনিক। কিন্তু সুখী দম্পতিরা ঝগড়া করেন ‘সমাধান’ করার জন্য, একে অপরকে ‘হারানোর’ জন্য নয়। তারা তর্কের মাঝেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন না এবং দিনশেষে এক বিছানায় শোয়ার আগে অন্তত বিবাদ মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন।
শেষ কথা
আমাদের চারপাশের এই যান্ত্রিক পৃথিবীতে সুখী হওয়াটা অনেকটা সাধনার মতো। এটি কোনো গন্তব্য নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের একটি ভ্রমণ।
আপনি কি আজ আপনার সঙ্গীকে কোনো ছোট কারণে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন? এই একটি শব্দই হয়তো আপনার সম্পর্কের নতুন মোড় হতে পারে। আপনি কি চান আমি আপনার সম্পর্কের এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে আরও রোমান্টিক করার কোনো বিশেষ টিপস বা ‘সারপ্রাইজ আইডিয়া’ শেয়ার করি?