Sunday 15 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদের সাজে ঝাড়বাতি: আলোয় বদলে যাক ঘরের আবহ

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:০০

ঈদ সামনে এলেই ঘর সাজানোর এক বিশেষ প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক পরিবারে। নতুন পর্দা, কার্পেট, কুশন কিংবা ছোটখাটো সাজসজ্জার জিনিসের পাশাপাশি এখন অনেকেই ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ঝাড়বাতি কিনছেন। একটি সুন্দর ঝাড়বাতি শুধু আলোর উৎসই নয়, এটি পুরো ঘরের পরিবেশ বদলে দিতে পারে। তাই ঈদের আগে অনেকেই রাজধানীর বিভিন্ন লাইটিং মার্কেটে খুঁজে বেড়াচ্ছেন পছন্দের ঝাড়বাতি।

বর্তমানে আধুনিক ফ্ল্যাট, ডুপ্লেক্স বাড়ি কিংবা ছোট অ্যাপার্টমেন্ট, সব ধরনের বাসার জন্যই বাজারে রয়েছে নানা ডিজাইন ও দামের ঝাড়বাতি। সঠিক ঝাড়বাতি বেছে নিতে কিছু বিষয় জানা থাকলে ঘর সাজানো যেমন সহজ হয়, তেমনি বাজেটও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

বিজ্ঞাপন

ঝাড়বাতির ধরনে এসেছে বৈচিত্র্য

এক সময় ঝাড়বাতি বলতে অনেকেই বড় ক্রিস্টালের ভারী লাইটই বুঝতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর নকশা ও প্রযুক্তিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন বাজারে ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি, আধুনিক এলইডি রিং ঝাড়বাতি, ক্যান্ডেল স্টাইল ঝাড়বাতি এবং মিনিমাল পেনডেন্ট ঝাড়বাতির মতো নানা ধরন দেখা যায়।

ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি সাধারণত বড় ড্রয়িংরুম বা অভিজাত সাজের ঘরে বেশি মানায়। এতে আলো পড়লে কাঁচের প্রতিফলনে ঘরে এক ধরনের ঝলমলে পরিবেশ তৈরি হয়। অন্যদিকে আধুনিক এলইডি রিং ঝাড়বাতি এখন শহরের ফ্ল্যাট বাসায় বেশ জনপ্রিয়। এর নকশা তুলনামূলক সরল, কিন্তু দেখতে আধুনিক। আবার ক্যান্ডেল স্টাইল ঝাড়বাতি পুরনো রাজকীয় নকশার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, যা বড় ছাদের ঘরে বেশ মানানসই।

কেমন ঘরে কেমন ঝাড়বাতি

ঝাড়বাতি কেনার আগে ঘরের আকার ও ছাদের উচ্চতা বিবেচনা করা জরুরি। বড় ড্রয়িংরুম বা ডুপ্লেক্স বাড়ির জন্য বহুস্তরের বড় ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি ঘরকে আভিজাত্যপূর্ণ করে তোলে। কিন্তু ছোট ফ্ল্যাট বা বেডরুমে বড় ঝাড়বাতি ব্যবহার করলে ঘর ভারী দেখাতে পারে। সে ক্ষেত্রে ছোট এলইডি বা পেনডেন্ট ধরনের ঝাড়বাতি বেশি মানায়।

ডাইনিং স্পেসে সাধারণত টেবিলের উপরে ঝুলন্ত পেনডেন্ট বা সরু ডিজাইনের ঝাড়বাতি সুন্দর দেখায়। আবার যদি ঘরের ছাদ অনেক উঁচু হয়, তাহলে বড় আকারের বা বহুস্তরের ঝাড়বাতি ব্যবহার করা যায়।

রঙের সঙ্গে মিল রাখাও জরুরি

ঝাড়বাতি নির্বাচন করার সময় শুধু নকশা নয়, ঘরের রঙের সঙ্গেও মিল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। হালকা রঙের দেয়ালে ক্রিস্টাল বা গোল্ডেন ফিনিশের ঝাড়বাতি বেশ আকর্ষণীয় লাগে। গাঢ় রঙের দেয়ালে সাদা বা উজ্জ্বল আলো ঘরকে উজ্জ্বল করে তোলে। আবার কাঠের আসবাবপত্র বেশি থাকলে উষ্ণ হলুদ আলো ঘরে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে।

কেনার সময় যেসব বিষয় মনে রাখা ভালো

ঝাড়বাতি কেনার আগে ঘরের আকার, ছাদের উচ্চতা এবং আলোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা উচিত। এলইডি লাইটের ঝাড়বাতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ায় এখন অনেকেই সেটিই পছন্দ করেন। পাশাপাশি ঝাড়বাতি পরিষ্কার করা কতটা সহজ, সেটিও ভেবে দেখা দরকার। কারণ বড় ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি পরিষ্কার করতে একটু বেশি যত্ন নিতে হয়।

কোথা থেকে কিনবেন

রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন লাইটিং মার্কেট ও শোরুমে ঝাড়বাতির বড় সংগ্রহ রয়েছে। নবাবপুর ও পুরান পল্টনের লাইটিং মার্কেট অনেক পুরনো এবং এখানে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে বিভিন্ন ধরনের ঝাড়বাতি পাওয়া যায়। এছাড়া গুলশান, বনানী ও উত্তরা এলাকায় আধুনিক ডিজাইনের লাইটিং শোরুম রয়েছে। যেমন: Aslam Lighting, Heavens Light Pvt. Ltd., Recent Lighting এবং GLORIA Lighting–এর মতো শোরুমে বাসা বা অফিসের জন্য নানা ধরনের আধুনিক ঝাড়বাতি পাওয়া যায়। এখানে ডিজাইন ও মান অনুযায়ী বিভিন্ন বাজেটের লাইটিং পণ্য পাওয়া যায়।

দামের দিকটি কেমন

বাংলাদেশের বাজারে ঝাড়বাতির দাম মূলত আকার, নকশা এবং ব্যবহৃত উপকরণের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ ডিজাইনের ছোট ঝাড়বাতি প্রায় সাত থেকে পনেরো হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। মাঝারি আকারের আধুনিক ঝাড়বাতির দাম সাধারণত পনেরো থেকে ত্রিশ হাজার টাকার মধ্যে। বড় ক্রিস্টাল বা বিলাসবহুল ঝাড়বাতির দাম ত্রিশ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।

সাধ্যমতো সাজ

ঈদের আনন্দ ঘিরে অনেকেই নতুনভাবে ঘর সাজাতে চান। তবে ঝাড়বাতি কেনার ক্ষেত্রে বাজেট ও ঘরের আকার—দুটিই বিবেচনা করা জরুরি। ছোট ফ্ল্যাটের জন্য মাঝারি বা ছোট ডিজাইনের ঝাড়বাতিই যথেষ্ট। আর বড় বাড়ি হলে বড় ও দৃষ্টিনন্দন ঝাড়বাতি ব্যবহার করা যায়।

ঈদের আগে ঘরের সাজে একটি সুন্দর ঝাড়বাতি যোগ করলে পুরো পরিবেশই হয়ে উঠতে পারে আলোকোজ্জ্বল ও উৎসবমুখর। তাই একটু ভেবেচিন্তে পছন্দের ঝাড়বাতি বেছে নিলে ঈদের আনন্দ আরও বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর