ঈদের দিন মানেই শিশুদের হৈ-হুল্লোড় আর পছন্দের সব খাবারের সমাহার। তবে উৎসবের আমেজে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস শিশুদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। শিশুদের পাকস্থলী বড়দের মতো সব ধরনের ভারী বা মশলাযুক্ত খাবার দ্রুত হজম করতে সক্ষম নয়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, কোল্ড ড্রিঙ্কস কিংবা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস থেকে শিশুদের পেটে ব্যথা, বমিভাব, এমনকি ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আনন্দের এই দিনটি যেন অসুস্থতার কারণে ফিকে হয়ে না যায়, সেজন্য শিশুদের খাবারের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রতিটি অভিভাবকের নৈতিক দায়িত্ব।
নিচে শিশুদের সুরক্ষায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও টিপস দেওয়া হলো…
মিষ্টি ও চকোলেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ
ঈদের দিন সেমাই, পায়েস, জর্দা এবং মেহমানদের দেওয়া চকোলেটের ছড়াছড়ি থাকে। অতিরিক্ত চিনি শিশুদের পেটে গ্যাস, পেট ব্যথা এবং কৃমির সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই তাদের মিষ্টি জাতীয় খাবার অল্প পরিমাণে দিন এবং ফলের তৈরি মিষ্টান্ন (যেমন ফ্রুট কাস্টার্ড) বেশি উৎসাহিত করুন।
মশলাযুক্ত ও বাইরের খাবার পরিহার
চেষ্টা করুন শিশুদের জন্য আলাদাভাবে কম মশলা দিয়ে খাবার তৈরি করতে। অতিরিক্ত ঝাল বা কড়া মশলাযুক্ত মাংস খেলে শিশুদের বদহজম বা ডায়েরিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া রাস্তার ধারের খোলা খাবার বা অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম থেকে তাদের দূরে রাখুন। শিশুদের জন্য আলাদাভাবে কম মশলা দিয়ে রান্না করা খাবার বা নরম খিচুড়ি রাখতে পারেন।
কোল্ড ড্রিঙ্কসের বিকল্প
শিশুরা রঙিন কোল্ড ড্রিঙ্কস খুব পছন্দ করে, যা তাদের দাঁত ও পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর। এর বদলে বাড়িতে তৈরি তাঁজা ফলের রস, লাচ্ছি বা ডাবের পানি দিন। এটি তাদের শরীরকে হাইড্রেটেড (সজল) রাখবে।
পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করা
নতুন জামা পরে দৌড়াদৌড়ি আর খেলাধুলায় শিশুরা ঘেমে যায় এবং পানি খেতে ভুলে যায়। এতে পানিশূন্যতা বা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। তাই কিছুক্ষণ পরপর তাদের পানি পানের কথা মনে করিয়ে দিন।
রাতের খাবার হোক হালকা
সারাদিন মেহমানবাড়ি গিয়ে এটা-সেটা খাওয়ার পর রাতে শিশুদের পেট ভার হয়ে থাকে। তাই
সারাদিন ভারী খাবার খাওয়ার পর রাতে শিশুদের খিচুড়ি, ওটস বা দুধ-রুটির মতো হালকা খাবার দিন। এতে তাদের ঘুম ভালো হবে এবং সকালে পেট খারাপ হওয়ার ভয় থাকবে না।
উল্লেখ্য, শিশুদের হাসি আর সুস্বাস্থ্যেই ঈদের সার্থকতা। সামান্য সচেতনতা তাদের ঈদের আনন্দকে করতে পারে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী।