Saturday 21 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সুন্নাহসম্মত ঈদ: খাবারের আদব ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় যা জানা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
২১ মার্চ ২০২৬ ১৬:০৫

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর উৎসবের আমেজে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ মানেই আত্মীয়-স্বজনদের মিলনমেলা আর হরেক রকমের মুখরোচক খাবারের সমাহার। তবে উৎসবের এই খুশিতে মেতে উঠে আমরা যেন আমাদের স্বাস্থ্যের কথা ভুলে না যাই। ইসলামি শরিয়তে ঈদের দিন খাবারের যেমন বিশেষ সুন্নাহ রয়েছে, তেমনি অতিরিক্ত ভোজন পরিহার করে সুস্থ থাকার নির্দেশনাও রয়েছে। ঈদের দিনের সুন্নাহসম্মত খাবার ও স্বাস্থ্যবিধির বিস্তারিত তুলে ধরা হলো…

ঈদের সকালে সুন্নাহসম্মত শুরু

ঈদুল ফিতরের দিনের অন্যতম সুন্নাহ হলো ঈদের নামাজের আগে মিষ্টিমুখ করা। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে কয়েকটি খেজুর না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না এবং তিনি সেগুলো বেজোড় সংখ্যায় (যেমন: ১টি, ৩টি বা ৫টি) খেতেন।

বিজ্ঞাপন

পুষ্টিগুণ: দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর সকালে খেজুর খেলে শরীরের মেটাবলিজম দ্রুত সচল হয় এবং তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। তাই সুন্নাহ মেনেই ঈদের সকাল শুরু করা উত্তম।

খাবারের তালিকায় যা রাখা প্রয়োজন

ঈদের মেন্যুতে বৈচিত্র্য আনতে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে নিচের খাবারগুলো রাখা যেতে পারে:

* দুগ্ধজাত খাবার: সেমাই, পায়েস বা ফিরনি ঈদের চিরচেনা ঐতিহ্য। দুধে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে, তবে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলাই ভালো।

* মধু ও ফলের রস: নবিজি (সা.) মধু খুব পছন্দ করতেন। শরবতের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে হজম শক্তি বাড়ে।

* প্রোটিন ও ফাইবার: দুপুরের খাবারে মাংস বা পোলাও থাকলেও তার সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে সালাদ ও লেবু রাখুন। এটি চর্বি হজম করতে সাহায্য করবে।

সুস্থতায় জরুরি কিছু সতর্কতা

উৎসবের দিনে পেটের পীড়া বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এড়াতে চিকিৎসকরা কিছু পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

* পরিমিত আহার: নবিজি (সা.)-এর শিক্ষা হলো পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি এবং বাকি অংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখা। ‘ওভারইটিং’ বা অতিরিক্ত ভোজন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

* পর্যাপ্ত পানি: সারাদিন মেহমানদারি ও ঘুরাঘুরির মাঝে পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলবেন না। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখবে।

* দই বা বোরহানি: ভারি খাবারের পর টক দই বা বোরহানি খেলে হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় এবং বুক জ্বালাপোড়া কম হয়।

* কোল্ড ড্রিঙ্কস পরিহার: চর্বিযুক্ত খাবারের পর অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় পরিহার করুন, কারণ এটি হজমে ব্যাঘাত ঘটায়।

উল্লেখ্য, ঈদের প্রতিটি কাজই সওয়াবের অংশ হতে পারে যদি তা সুন্নাহ ও পরিমিতবোধের সাথে সম্পন্ন হয়। অতিরিক্ত ভোজন পরিহার করে স্বাস্থ্য সচেতন থাকলে যেমন ইবাদতে একাগ্রতা থাকে, তেমনি ঈদের আনন্দও হয় দীর্ঘস্থায়ী। সুন্নাহসম্মত খাদ্যাভ্যাস আপনার ঈদকে করুক আরও বরকতময় ও স্বাস্থ্যকর।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

ব্যাটারির আয়ু বলে দেবে এআই
২১ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর